কক্সবার্তা ডেস্ক :
কক্সবাজারের মহেশখালীর ‘মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের’ প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের নাম এসেছে। আরও আটজন সরকারি কর্মকর্তাসহ ৩৬ জন এতে জড়িত বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদক কক্সবাজার জেলার সরকারি কৌঁসুলি আবদুর রহিম বলেন, মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় চিংড়ির ক্ষতিপূরণ দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসকসহ ৩৬ জন। বাস্তবে ওই জমিতে তখন চিংড়ি চাষ হচ্ছিল না। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং সদর মডেল থানায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে দুদক এই দুর্নীতি উদ্ঘাটন করে।
দুদক বলছে, শিগগিরই এই ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবে তারা। গত ২৮ মার্চ দুদক কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমতি দিয়েছেন। অভিযোগপত্রের খসড়ার অনুলিপি ৩ এপ্রিল কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে দাখিল করেছে দুদক।
অভিযোগপত্রে নাম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁদের মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সাবেক ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা, সাবেক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, একজন উচ্চমান সহকারী, কানুনগো এবং সাবেক সার্ভেয়ার রয়েছেন।
দুদক ও পুলিশ সূত্র জানায়, ৩ এপ্রিল মামলার তিন আসামি আবুল কাশেম মজুমদার ও আইনজীবী নুর মোহাম্মদ সিকদারকে কক্সবাজার থেকে এবং সার্ভেয়ার মো. ফখরুল ইসলামকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এর মধ্যে নুর মোহাম্মদ সিকদার ৪ এপ্রিল জামিনে মুক্ত হলেও অন্য দুজন কারাগারে রয়েছেন।
দুদক সূত্র জানায়, মাতারবাড়ীর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত ১ হাজার ৪১৪ একর জমিতে চিংড়ি চাষ রয়েছে দেখিয়ে ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা আত্মসাৎ করেন ওই ৩৬ জন।
দুদকের আইনজীবী আবদুর রহিম বলেন, ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনসহ ২৮ জনেরবিরুদ্ধে প্রায় ২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলাটি করেন মাতারবাড়ীর বাসিন্দা কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ২০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২৩ কোটি টাকার আত্মসাৎ মামলা করেন তৎকালীন ভূমি হুকুম দখল কার্যালয়ের কর্মকর্তা এম এম মাহমুদুর রহমান। মামলা দুটি তদন্তের দায়িত্ব পান দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ আহমেদ।
সৈয়দ আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত ৩৬ জনের মধ্যে তিনজনকে তাঁরা গ্রেপ্তার করেছেন। শিগগিরই অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করা হবে। আদালতের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য আসামিরা হাজির না হলে তাঁদের ধরতে অভিযান শুরু করবে দুদক।cd
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের টাকা আত্মসাতে সাবেক জেলা প্রশাসকসহ ৩৬ জনের নাম
Rating: 5
Reviewed By: Unknown