• Latest News

    মহেশখালী শাপলাপুরে দুই চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্যারাবন পুড়ে চিংড়ি ঘের নির্মাণ : বন বিভাগ নিরব


    এ.এম হোবাইব সজীব, উপকূলীয় প্রতিনিধি :
    মহেশখালীর শাপলাপুর জামায়াতের দাপুটে নেতা নুরুল হক চেয়ারম্যান সাবেক চেয়ারম্যান নেজাম উদ্দিন নেতৃত্বে প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের নিমার্ণে হিড়িক পড়েছে। এখন তারা প্যারাবন দখল করতে সেখানে এক হয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য জানা গেছে। সরেজমিন গিয়ে স্থানিয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দর্যে ভরপুর শাপলাপুর এখন আর শান্ত নেই। প্রতিদিন রাতে শোনা যায় গুলির বিকট শব্দ। আস্তানা গেড়েছে পেশাদার সন্ত্রাসীরা। একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ অবস্থান করছেন শাপলাপুর দখরকৃত চিংড়ি ঘেরে ও পাহাড়ে। মজুদ করেছে দেশের সবচেয়ে বড় ধরনের অস্ত্রের ভান্ডার। পেছন থেকে নয় এখন সামনে থেকেই এসব সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়া হচ্ছে।
    সম্প্রতি বন বিভাগের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে তাদেরকে তাড়া করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে এসব সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। এসব সন্ত্রাসীদের লালন করা মধ্যে অনেকের নাম উঠে এসেছে শাপলাপুর ইউনিয়ের চেয়ারম্যান জামায়াতের অর্থ জোগান দাতা স্থানিয় চেয়ারম্যান নুরুল হক এবং সাবেক চেয়ারম্যান নেজাম উদ্দিন। তবে আনু মেম্বার, মো: মোনাফ, ফকিরের নাম উঠে এসেছে। তারা দখল করে নিয়েছে ১৫ এককর প্যারাবনে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ করেছে।
    এদিকে মহেশখালী থানার নবাগত দুঃ সাহসিক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করার হুঁশিয়ারী দেওয়ায় অনেক সন্ত্রাসী আদালতে আত্মসর্ম্পন ও করেছে। তিনি অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছেন ৩ ডজনখানিক সন্ত্রাসী উদ্ধার করেছেন অবৈধ অস্ত্র। এদিকে প্যারাবন দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় গণমাধ্যমে কিছু সংবাদ প্রকাশ হলে তেমন দৃশ্যমান সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে না পত্রিকায় পাতায়। দাপটু নেতাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকদের উপর হুমকি দমকি ও আসতে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
    তবে শাপলাপুর বাজার থেকে কায়দাবাদ বাজার পর্যন্ত প্যারাবনের দক্ষিণ পাশে বেড়ীবাঁধের মাটি খাটার রিং বাঁধ দেওয়ার বাহানা দিয়ে জামায়েত নেতা নুরুল হক চেয়াম্যানের নেতৃত্বে প্যারাবন নিধন করে ৭/৮টি চিংড়িঘের নির্মান করেছে। যা দেখলে মনে হয় এ সব রক্ষা করার কেউ নেই।
    জানাগেছে, উপজেলার শাপলাপুর এলাকায় প্রায় ৫০ একর জায়গা জুড়ে প্যারাবন সৃজন করে সরকারের পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যে চারটির শ’ খানেক এককর জায়গায় উপকূলীয় বন বিভাগের পক্ষ থেকে সৃজন করা হয় প্যারাবন। কিছুর প্যারাবন রয়েছে যেগুলো দীর্ঘদিন প্রভাবশালীদের দখলে। প্যরাবন সর্ম্পূণ অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি ঘের তৈরি করেছেনে তাঁরা। বাকী জায়গা গুলোখাস হলেও দীঘদিন ধরে অব্যবহ্নত অবস্থায় ছিলো। ৫০ একরের অধিক প্যরাবন এখন উপজেলার প্রভাবশালী মহলের লোলুপ দৃষ্টি। ১০ এককর জায়গা বাঁধ দিয়েছেন স্থানিয় চেয়ারম্যান নুরুল হক। জাতীয় পার্টির নেতার সাবেক চেয়ারম্যান নেজাম উদ্দিন দখল করে নিয়েছেন ৭ একরের অধিক প্যারাবনের অংশ। এ ক্ষেত্রে নুরুল হক এগিয়ে রয়েছেন।
    সম্প্রতি মহেশখালী শাপলাপুর ইউনিয়নের পূর্বপাশে ৩টি প্যাকেজের মাধ্যমে বেড়ীবাঁধ নির্মানের কাজ চলছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্তবধানে। কিন্তু টিকাদাররা স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল হক ও অন্যান্য লোকজনের মাধ্যমে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নুরুল হক চেয়ারম্যান বেড়ীবাঁধে মাটি ফেলার বাহানা দিয়ে প্যারাবন কেটে চিংড়ি প্রকল্প নির্মান করেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, অপরদিকে এসব প্যারাবন কেটে গাছগুলো নৌকাযোগে বিভিন্ন স্থানে জ্বালানী হিসেবে পাঁচার করে দিচ্ছে। এ সব নিধনযংজ্ঞ দেখলে মনে হয় বন বিভাগের কেউ নেই।
    এদিকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বেড়িবাঁধে মাটি দেয়ার জন্য প্যারাবন কেটে রিং বাঁধ দিয়েছি মাত্র। বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষ হলে আমি নিজেই তা কেটে দেব। স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, শাপলাপুর উপকূলীয় বিট অফিসার ৬টি ঘের বাবদ চেয়ারম্যান থেকে দফায় দফায় ২লাখের অধিক টাকা নিয়েছে। এমনকি ছালাম নামের এক ডাক্তার জানান, তার দোকানে বসে চেয়ারম্যান থেকে বিট অফিসার কয়েক দফা টাকা নিয়েছে।
    অভিযুক্ত শাপলাপুর উপকূলীয় বিট অফিসারের ইব্রাহীম‘র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চেয়ারম্যান থেকে কোন টাকা নেননি এবং ঘের নির্মাণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে তিনি পাচ্ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ প্রতিবেদক মামলার কপি চাইলে তার কাছে নাই বলে জবাব দেয়। এবিষয়ে উপকুলীয় বন গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন গাছ যে পুড়ে দেওয়া হয়েছে তা এখনো অবহিত নয়। ১৫ দিন আগে বিরাট প্যারাবন কেটে জ্বালিয়ে দিয়েছে এখনো না জানার রহস্য কি জানতে চাইলে তিনি বলেন- ছুটিতে থাকার কারনে তিনি এখানে ছিলো না।
    আর রিংবাঁধের নামে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হককে প্যারাবন দখলের অপচেষ্টা তারা হতে দেবেনা বলে জানান। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বলেন- প্যারাবন পুড়া ও চিংড়ি ঘের নির্মানে উপকুলীয় ফরেস্ট রেঞ্জ জড়িত এবং এ বিষয়ে জরুরী ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
    এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ আসলে যথাযত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: মহেশখালী শাপলাপুরে দুই চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্যারাবন পুড়ে চিংড়ি ঘের নির্মাণ : বন বিভাগ নিরব Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান