আশেক উল্লাহ,কক্সবাজার::
নয়াদিগন্ত প্রতিনিধি ।।
বৈশাখী ইলিশের ক্রেতারা কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে খালি হাতে ফিরে গেছেন। কারণ ইলিশের দেখা নেই।
সাগর থেকে মাছ শিকার করে ফিশিং বোটগুলো একে একে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসছে ঠিকই কিন্তু ইলিশ নিয়ে আসতে পারছেন না। ফিশিং বোটগুলো থেকে নামানো হচ্ছে বোম মাইট্টা, লাল চিংড়ি, মাইট্টা, মোচ মাছ, পোপা ও অল্প সংখ্যক ফইল্যা মাছ। কিন্তু সেখানে প্রত্যাশিত ইলিশ নেই। তাই দেশের বিভিন্ন শহরের পাইকারি ক্রেতারা কয়েক দিন অপেক্ষার পর খালিহাতে কক্সবাজার ছাড়ছেন। এমনই চিত্র দেখা গেছে গত বুধবার কক্সবাজার মৎস্য অবহরণ কেন্দ্রে গিয়ে।
শুধু ইলিশ নয়,সব মাছের সরবরাহ কমে গেছে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। এ কারণে রাজস্ব আদায়ও কমে গিয়ে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সবার একটাই বক্তব্য সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। জেলেরা গভীর সাগরে দিন রাত চেষ্টা করেও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। আবার মাছ পেলেও তা জলদস্যুরা লুটপাট করে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকার কাওরান বাজার থেকে আসা আড়তদার নুরুল হক বলেন, ইলিশের জন্য সরেজমিন কক্সবাজারে মাছের অবস্থা দেখতে এসেছিলাম কিন্তু আসাটা সফল হয়নি, বাধ্য হয়ে হিমায়িত কিছু ইলিশ নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী জানেআলম বলেন, এবার ইলিশের বেশ চাহিদা ছিল কিন্তু ইলিশ সাগরে পাওয়া যাচ্ছে না,'কিছু ইলিশ নববর্ষের জন্য হিমায়িত করে রেখেছিলাম কয়েক মাস আগে এখন সেই হিমায়িত ইলিশগুলো বিক্রি করছি'। ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম চিশতি জানান, সাগরে মাছ না পাওয়ায় সব মাছের দাম ও চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। তিনি সাগরে মাছের আকালের জন্য বড় ফিশিং ভ্যাসেলগুলোর ট্রলিংকে দায়ি করে বলেন, একটি ফিশিং ভ্যাসেলের ট্রলিংয়ের ফলে কয়েক লাখ পোনা মাছ মরে যায়। এর ফলে সাগরে মাছের প্রজনন ভারসাম্য ক্রমাগতভাবে নষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া একটি ফিশিং ভ্যাসেল প্রায় ৩০টি ফিশিং ট্রলারের মাছ শিকার করে নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতা মোশতাক আহমদ জানান,সাগরে অবিশ্বাস্যভাবে মাছ কমে গেছে। তাছাড়া সাগরের যে এলাকায় ইলিশ পাওয়া যায় সেখানে জলদস্যুর কারণে জেলেরা মাছ শিকার করতে পারেন না। তাছাড়া ইলিশসহ মূল্যবান আনেক মাছ লুট হয় সাগরে। তাই কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছের ল্যান্ডিং কমে গেছে। তিনি জানান,একবার মাছ শিকারে যেতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হয়। মাছ পাওয়া যায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার। তাও জলদস্যুর কবল এড়িয়ে আসতে হয়। এভাবে লোকসান দিয়ে অনেক মালিক আর মাছ শিকারে তাদের বোট পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক শরীফুল ইসলাম জানান,তিনি বিগত তিন বছর ধরে এই পদে আছেন। তার দেখা সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে কক্সবাজার মৎস্য কেন্দ্রের। মাছ নেই। তাই রাজস্বেও ধস নেমেছে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৪/১৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হতো। একই সময়ে চলতি বছর তা ৬/৭ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। কোন কোন দিন আরো কম রাজস্ব আদায় হয়। সাগরে অনিশ্চয়তার মাঝে জেলেরা মাছ শিকারে উৎসাহ হারাচ্ছেন। তাই সরবরাহও কম বলে মনে করেন তিনি। তবে কিছু দিন পর আবারও মাছের সরবরাহ বাড়বে বলে জানান তিনি।
ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির কয়েকজন নেতা জানান, সাগরে জলদস্যুর হানা, লুটপাট, সাগরে গিয়েও মাছ না পাওয়া ইত্যাদি কারণে ক্রমাগতভাবে লোকসানের কবলে পড়েছে ফিশিংবোটের মালিকেরা। বর্তমানে দশ ভাগ ফিশিং ট্রলারও নেই মাছ শিকারের কাজে। বহদ্দারেরা তাদের ফিশিং বোটগুলো বিক্রি করতে উদগ্রীব কিন্তু ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র মতে, সাগরে জলদস্যুর হামলায় হতাহতের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। অপর দিকে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে সাগরে নিখোঁজ মাঝি-মাল্লার তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই বলে জেলেরা আর সাগরে যেতে চান না। বর্তমানে মাছ শিকার এমন এক অনিশ্চয়তার পেশা হয়েছে, এই পেশায় আগ্রহী ও অভিজ্ঞ লোকবল পাওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার কবলে পড়েছে সামুদ্রিক মাছ শিকার। কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির দেয়া তথ্য মতে,কক্সবাজার উপকূলে কয়েক বছর আগেও প্রায় ছয় হাজার ফিশিং বোট নিয়মিত মাছ শিকারে যেত,বর্তমানে এই সংখ্যা এক হাজারের নিচে নেমে এসেছে।
সাগর থেকে মাছ শিকার করে ফিশিং বোটগুলো একে একে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসছে ঠিকই কিন্তু ইলিশ নিয়ে আসতে পারছেন না। ফিশিং বোটগুলো থেকে নামানো হচ্ছে বোম মাইট্টা, লাল চিংড়ি, মাইট্টা, মোচ মাছ, পোপা ও অল্প সংখ্যক ফইল্যা মাছ। কিন্তু সেখানে প্রত্যাশিত ইলিশ নেই। তাই দেশের বিভিন্ন শহরের পাইকারি ক্রেতারা কয়েক দিন অপেক্ষার পর খালিহাতে কক্সবাজার ছাড়ছেন। এমনই চিত্র দেখা গেছে গত বুধবার কক্সবাজার মৎস্য অবহরণ কেন্দ্রে গিয়ে।
শুধু ইলিশ নয়,সব মাছের সরবরাহ কমে গেছে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। এ কারণে রাজস্ব আদায়ও কমে গিয়ে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সবার একটাই বক্তব্য সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। জেলেরা গভীর সাগরে দিন রাত চেষ্টা করেও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। আবার মাছ পেলেও তা জলদস্যুরা লুটপাট করে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকার কাওরান বাজার থেকে আসা আড়তদার নুরুল হক বলেন, ইলিশের জন্য সরেজমিন কক্সবাজারে মাছের অবস্থা দেখতে এসেছিলাম কিন্তু আসাটা সফল হয়নি, বাধ্য হয়ে হিমায়িত কিছু ইলিশ নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী জানেআলম বলেন, এবার ইলিশের বেশ চাহিদা ছিল কিন্তু ইলিশ সাগরে পাওয়া যাচ্ছে না,'কিছু ইলিশ নববর্ষের জন্য হিমায়িত করে রেখেছিলাম কয়েক মাস আগে এখন সেই হিমায়িত ইলিশগুলো বিক্রি করছি'। ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম চিশতি জানান, সাগরে মাছ না পাওয়ায় সব মাছের দাম ও চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। তিনি সাগরে মাছের আকালের জন্য বড় ফিশিং ভ্যাসেলগুলোর ট্রলিংকে দায়ি করে বলেন, একটি ফিশিং ভ্যাসেলের ট্রলিংয়ের ফলে কয়েক লাখ পোনা মাছ মরে যায়। এর ফলে সাগরে মাছের প্রজনন ভারসাম্য ক্রমাগতভাবে নষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া একটি ফিশিং ভ্যাসেল প্রায় ৩০টি ফিশিং ট্রলারের মাছ শিকার করে নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতা মোশতাক আহমদ জানান,সাগরে অবিশ্বাস্যভাবে মাছ কমে গেছে। তাছাড়া সাগরের যে এলাকায় ইলিশ পাওয়া যায় সেখানে জলদস্যুর কারণে জেলেরা মাছ শিকার করতে পারেন না। তাছাড়া ইলিশসহ মূল্যবান আনেক মাছ লুট হয় সাগরে। তাই কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছের ল্যান্ডিং কমে গেছে। তিনি জানান,একবার মাছ শিকারে যেতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হয়। মাছ পাওয়া যায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার। তাও জলদস্যুর কবল এড়িয়ে আসতে হয়। এভাবে লোকসান দিয়ে অনেক মালিক আর মাছ শিকারে তাদের বোট পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক শরীফুল ইসলাম জানান,তিনি বিগত তিন বছর ধরে এই পদে আছেন। তার দেখা সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে কক্সবাজার মৎস্য কেন্দ্রের। মাছ নেই। তাই রাজস্বেও ধস নেমেছে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৪/১৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হতো। একই সময়ে চলতি বছর তা ৬/৭ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। কোন কোন দিন আরো কম রাজস্ব আদায় হয়। সাগরে অনিশ্চয়তার মাঝে জেলেরা মাছ শিকারে উৎসাহ হারাচ্ছেন। তাই সরবরাহও কম বলে মনে করেন তিনি। তবে কিছু দিন পর আবারও মাছের সরবরাহ বাড়বে বলে জানান তিনি।
ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির কয়েকজন নেতা জানান, সাগরে জলদস্যুর হানা, লুটপাট, সাগরে গিয়েও মাছ না পাওয়া ইত্যাদি কারণে ক্রমাগতভাবে লোকসানের কবলে পড়েছে ফিশিংবোটের মালিকেরা। বর্তমানে দশ ভাগ ফিশিং ট্রলারও নেই মাছ শিকারের কাজে। বহদ্দারেরা তাদের ফিশিং বোটগুলো বিক্রি করতে উদগ্রীব কিন্তু ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র মতে, সাগরে জলদস্যুর হামলায় হতাহতের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। অপর দিকে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে সাগরে নিখোঁজ মাঝি-মাল্লার তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই বলে জেলেরা আর সাগরে যেতে চান না। বর্তমানে মাছ শিকার এমন এক অনিশ্চয়তার পেশা হয়েছে, এই পেশায় আগ্রহী ও অভিজ্ঞ লোকবল পাওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার কবলে পড়েছে সামুদ্রিক মাছ শিকার। কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির দেয়া তথ্য মতে,কক্সবাজার উপকূলে কয়েক বছর আগেও প্রায় ছয় হাজার ফিশিং বোট নিয়মিত মাছ শিকারে যেত,বর্তমানে এই সংখ্যা এক হাজারের নিচে নেমে এসেছে।
