স্পোর্টস ডেস্ক :
আম্পায়ার আলিম দার মাথাটা ওপর-নিচে নাড়ালে এখন থেকে বুঝে নিতে হবে ওটা ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত না দিবালোকে স্পষ্ট করে তর্জনীটা তিনি তুলছেন, কিছুই বলা যাবে না। কাল যেমন পি সারায় ঘটল। ঘটনাটা একটা ছোট্ট নাটিকা গোত্রের তো বটেই।
প্রেসবক্স প্রান্ত থেকে দিনের শেষ ওভারটি করছিলেন অফ স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন। শেষ বল। প্রায় পূর্ণ লেন্থের। সামান্য টার্নও করেছিল। ঊরুসমান উচ্চতায় খেলতে গেলেন সুরঙ্গা লাকমল। দৃশ্যত মনে হলো গ্লাভস বা ব্যাটের ভেতরের কানা নিয়ে জমা পড়ল তা ফরোয়ার্ড শর্ট লেগ ফিল্ডার সাব্বির রহমানের হাতে। নন-স্ট্রাইক ব্যাটসম্যান দিলরুয়ান পেরেরার দিকে না তাকিয়ে হাঁটা দিলেন লাকমল। আলিম দারও মাথা ওপরে-নিচে ঝাঁকালেন। বাংলাদেশ দল উল্লসিত। শেষ বলে গেল তাহলে ওদের নবম উইকেট!
সংবিৎ ফিরল খানিক পর, যখন আলিম দারের আর কোনো রা নেই। ভাবখানা এমন যেন, আমি তো আঙুল তুলিনি! মুশফিক বাধ্য হয়েই রিভিউ নিলেন। তৃতীয় আম্পায়ার মারাইস ইরাসমাস মিনিট দুয়েক টিভিতে স্লো মোশনে বিষয়টি আগাপাছতলা দেখলেন। সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে পেরে ইরাসমাস জানিয়ে দিলেন ‘নটআউট। ’ তারপরই বেল তুলে নিলেন আম্পায়াররা, শেষ হলো দিনের খেলা। কিন্তু শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না, থেকে যাচ্ছে এ ঘটনার রেশ।
মোসাদ্দেক হোসেন দিন শেষে সাংবাদিকদের জানিয়ে গেলেন সিদ্ধান্তটি পক্ষে না আসায় তাঁরা হতাশ। আম্পায়ারের মাথা নাড়া দেখেই আউট ভেবে উল্লাস শুরু করে দিয়েছিল গোটা দল। আউটের সিদ্ধান্ত না আসাতেও দল আত্মবিশ্বাসী ছিল, ডিআরএস পক্ষে আসবে। যেহেতু আম্পায়ার মাথা নাড়িয়েছেন! ক্যাচের আবেদন হওয়ার পর লাকমল হাঁটা দিয়েছিলেন কি না, সেটি নাকি মোসাদ্দেক দেখেননি।
এসব ক্ষেত্রে দুই শিবিরের ভাষ্য সাধারণত দুই রকম হয়। যেমন ভিন্নতা থাকল করুনারত্নের কথায়। বিপন্ন হয়ে পড়া শ্রীলঙ্কা ইনিংসের রক্ষাকর্তা বললেন, লাকমল আউট হলে তো আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিতেনই। তাহলে লাকমল কেন হাঁটা দিলেন? ‘দিনের শেষ বল ছিল বলে সে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটছিল, আম্পায়ার মাথা নেড়ে সেই সম্মতিই তাকে জানিয়ে দেন। ’ তবে রিভিউ নিয়ে অসন্তুষ্টি আছে করুনারত্নেরও। মোস্তাফিজের প্রথম উইকেটটি তাঁর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, ‘স্নিকোমিটার না থাকলে ডিআরএসের মানে হয় না। ’
যা-ই হোক না দিনভর রোমাঞ্চকর ক্রিকেটের মধ্যে আলিম দারের এ সিদ্ধান্তটি একটু অ্যান্টিক্লাইম্যাক্সই তৈরি করেছে। আলিম দার অনেক ভালো আম্পায়ার। আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ার হয়েছেন অনেকবার। তবু কীভাবে বাংলাদেশকে ঘিরেই বিতর্কে জড়িয়ে যায় তাঁর নাম। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে! রোহিত শর্মাকে করা রুবেলের বলটি বুকসমান উচ্চতায় ছিল, না কোমরসমান—এ নিয়ে আজও তর্ক চলে।
এখন ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম আরও উন্নত হচ্ছে। একেবারে নিখুঁত সিদ্ধান্ত তাতে বেরিয়ে আসে। আম্পায়াররা নির্ভুল থাকতে পারেন কি না, সেটিরও পরীক্ষা এতে হয়ে যাচ্ছে। এখানেই তাঁর দেওয়া অন্তত তিনটি সিদ্ধান্ত উল্টে দিয়েছে ডিআরএস। গল টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজের বিপক্ষে এলবিডব্লু সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। রিভিউয়ে দেখা গেল, বল তাঁর ব্যাটে লেগেছিল রীতিমতো ঘণ্টা বাজিয়ে।
আলিম দারের এই শেষ বলটির সিদ্ধান্তে মুশফিকদের মন একটু খারাপ। সবাই একটু হতাশ। তবে পৃথিবীর সবকিছু তো আর তাতে শেষ হয়ে যায়নি! মোসাদ্দেকের কথায় যা বোঝা গেল, এটি ভুলে গিয়েই তাঁরা পঞ্চম দিনের শুরুতেই শ্রীলঙ্কার বাকি দুটি উইকেট তুলে নিতে ঝাঁপাবেন। বাংলাদেশের ডিআরএস-ভাগ্যটা পি সারা স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত বেশ তির্যক। চারটি রিভিউয়ের মাত্র একটিতেই দল হাসতে পেরেছে। হাসবে কী করে? আম্পায়ার বাংলাদেশের পক্ষে আঙুল তোলেন কিংবা মাথা নাড়ান, হেরাথরা রিভিউ নিয়ে ঠিকই জিতে যান। তবে চতুর্থ দিনের খেলার শেষ ৩২ সেকেন্ডে আলিম দার মাথা নাড়ানোর সঙ্গে আঙুলটা তুললে আরেকটি হতাশা তাদের গ্রাস করে না!rb.
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: শেষ বলে নাটক করলেন আলিম দার
Rating: 5
Reviewed By: Unknown