আল জাবের, উপকূলীয় প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের চকরিয়া উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের তিন নম্বর ব্লকের সাত গ্রামের জনসাধারণ একযোগ ধরে সংস্কার ও উন্নয়নের অভাবে গ্রামীণ অভ্যান্তরীণ আজমনগর হইতে দক্ষিণ মাথা সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতার অভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ এসড়কটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রায় ৯শত পরিবারের জনসাধারণকে চরম ভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘ প্রায় একযুগ ধরে সড়কের ভাঙ্গন, কালভাট নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে ওই এলাকার সাতটি গ্রামে গাড়ী চলাচলের কোন প্রকার সুযোগ নেই। স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীদের যানবাহন যাতায়ত করতে পারছে না। বর্ষাকাল আসার পূর্বে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলাচল অনুপযোগী সড়কটি অবিলম্বে সংস্কার করার জন্য উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছে এলাকার সচেতন মহল। সুত্রে জানা যায়, উপজেলার উপকূলীয় সমুদ্রতীরবর্তী মহেশখালী চ্যানেলের পাশ্বোক্ত ইউনিয়ন হচ্ছে বদরখালী ইউনিয়ন।
৫০হাজার জনগোষ্টি নিয়ে ৩টি ব্লকে বিভক্ত এই ইউনিয়নটি। তৎমধ্যে ৩ নম্বর ব্লকের পরিষদের ৯,৫,৬, নম্বর এ ওয়ার্ডগুলিএকেবারে উন্নয়ন বঞ্চিত। প্রায় সাতশত পরিবার ও ১৫০০ হাজার জনগোষ্টির জনগুরুত্বপূূর্ণ যাতায়তের একমাত্র সড়ক হচ্ছে বদরখালী মধ্যম সড়ক। (আজমনগর হইতে দক্ষিণ মাথা পর্যন্ত কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি) উক্ত সড়ক দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে রামপুর চিংড়ি প্রকল্পের মাছ রপ্তানি সহ হাজারো গ্রামের মানুষ যাতায়ত করে থাকে। পাশ্ববর্তী সমিতির আওতাধীন চিংড়ি প্রকল্প রয়েছে ৮ টি ইউনিয়ন এবং অত্র ইউনিয়ন ও বদরখালী বাজারের সাথে উক্ত সড়ক এক মাত্র যাতায়তের মাধ্যম। কিন্তু স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের খামখেয়ালি ওদায়িত্বহীনতার অভাবে সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বদরখালী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের বদরখালী মধ্যম সড়ক দিয়ে ওই এলাকার ৭ গ্রামের নাপিতখালী পাড়া,মামা ভাগিনা পাড়া,দক্ষিণ পুকুরিয়া পাড়া,মগনামা পাড়া, মহুরীজোরা পাড়া, আজমনগর পাড়া,মগনামা পাড়া,দাতিনা খালী, খাল কাচা পাড়া,গোদাম পাড়া,আমির খালী পাড়ার বাসিন্দারা যাতায়ত করে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের মধ্যখানে চিংড়ী ঘেরের পানি চলাচলের জন্য নির্মিত বক্সকালর্ভাট এপ্রোজের মাটি সরে যাওয়ার ফলে জনগণের যাতায়ত করা মুলত ভোগান্ততিতে পড়েছে।
এতদ্ব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আজো কোন ধরণের নেইনি কোন সংস্কার ও উদ্যোগ। এ সড়কটি বর্তমানে যাতায়ত ও যান চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পথচারীদের চলাচল ও যানবাহন যাতায়ত এক প্রকার বন্ধ বললেই চলে। এখানকার স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ওমাদ্রাসার শত শত ছাত্র-ছাত্রী আসা যাওয়া করে। এছাড়াও অত্র ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বদরখালী বাজারে যাতায়ত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বদরখালী ডিগ্রি কলেজ, বদরখালী কলোনিজেশন উচ্চ বিদ্যালয়, বদরখালী এম এস ফাজিল মাদ্রাসা ও আশ পাশের সরকারী এবং বেসরকারী দ্বীনি প্রতিষ্টানে যাতায়তের জন্য এ সড়কটি সংস্কার অত্যান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। বদরখালী মধ্যম সড়কটি বাকী কাজ।
চলাচল অকজো হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে । বদরখালী ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্র আরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিবর্ষার মৌসুমে সাত গ্রামের শিক্ষার্থীরা সড়ক দিয়ে যাতায়তের জন্য খুবই দুষ্কর হয়ে পড়ে। রাস্তার দু'ধারে বিলীন হয়েগেছে ইট। যেন রাস্তার অস্থিত্ব ও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক কিলোমিটারেরর পথ এখন দুই কিলোমিটার ফাঁড়ি দিয়ে মাদ্রসায় যেতে হয়। সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যর্থতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এ বাকী সড়কটি আজ বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। পরিকল্পিত ভাবে উন্নয়ন না হওয়ায় ও সুষ্ট তদারকির অভাব এবং প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার কারণে গ্রামীণ এ সড়ক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।
এ ব্যাপারে বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল বশরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) বিভাগের অধিনে সড়কটি কাজ করেন এবং চলমান বর্তমানে এ সড়কটি বাকী সংস্কার ও মেরামতের জন্য চকরিয়া-পেকুয়া জাতীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কয়েকবার মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। শীঘ্রই এ ( বাকী আজমনগর হইতে দক্ষিণ মাথা পর্যন্ত সড়ক) সংস্কারের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: একযুগেও মেলেনি বদরখালীর সাত গ্রামে উন্নয়ন, চরম দুর্ভোগে ৯ শতাধিক পরিবার
Rating: 5
Reviewed By: Unknown