মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া দক্ষিণ :
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম রেজুর বিরূদ্ধে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। গত ৫মার্চ দায়েরকৃত মামলায় হাকিম (ভারপ্রাপ্ত) জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম ছাত্রী ও ছাত্রীর মা'র (বাদী) জবানবন্দিতে মামলা রুজু করার জন্য চকরিয়া থানাকে নির্দেশ দেন। মামলার বিবরণী ও বাদিনীর রূপালী সৈকতের কছে স্বীকারোক্তিতে জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার হেলালীর চেহলাম উপলক্ষে অর্ধ দিবস ছুটি ঘোষণা করলে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রাক্কালে সৌদি প্রবাসি শামসুদ্দিনের কিশোরী মেয়ে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী (১৪ ) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাথরুমে যায়। ওইসময় সাথে থাকা অপর দুই সহপাঠিনী বাথরুমের দরজা চেপে ধরে। তা দেখে শিক্ষক রেজু দৌড়ে এসে তারা ওখানে কি করছে জানতে চেয়ে তাদের বকাঝকা করে তাড়িয়ে দেয়। এবং শিক্ষক রেজু ওই ছাত্রী বাথরুমে অবস্থানরত সময়ে দরজা খুলতে তাড়াতাড়ি কাপড় পড়ে নেয় সে। এসময় বাথরুম ময়লা করেছে অভিযোগে ছাত্রীকে বদনা নিয়ে পানি এনে পরিস্কার করে দিতে বলেন শিক্ষক রেজু। শিক্ষকের কথামত তৃতীয় বার বদনা নিয়ে পানি আনার সময় ঠোটে লিপস্টিক দিয়েছ কেন বলে হাত ধরে মুখে তিনটি আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেন এবং মুখ ও ঠোটে সজোরে মুচড়ে দেয়। যখন ওই ছাত্রী চলে আসতে চায় জোরপূর্বক তার শরীরে হাতরাতে থাকে ওই শিক্ষক। কান্নাকাটি শুরু করছে যখন ছাত্রীকে বাহু দিয়ে ধাক্কা ও হাতের থাবা দিয়ে আঘাত করে। পরে মেয়েটি কৌশলে পালিয়ে এসে বাড়িতে তার মাকে ঘটনা খুলে বলেন। পরে ১মার্চ মেয়েকে নিয়ে মা তাহমিনা আকতার মাদ্রাসায় গিয়ে সুপার ও পরিচালনা কমিটিকে শিক্ষক রেজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। কিন্তু তারা এব্যাপারে কোনপ্রকার কর্ণপাত করেননি। ওসময় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি খুটাখালী ইউ. আওয়ামীলীগের সভাপতি সংবাদ মাধ্যমে অভিযোগের ব্যাপারে স্বীকার করেছে উল্লেখ থাকলেও পরে দৈনিক রূপালী সৈকতের কাছে লিখিত কোন অভিযোগ জানায়নি বলে জানান। পরে তারা কক্সবাজারে সদর হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে রেজিঃ নং ২৯০১/২৪ মূলে ভর্তি করে চিকিৎসা করেন। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের শরনাপন্ন হয়ে ২০০০(সংশোঃ/০৪) ৯ এর ৪(খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে এ ঘটনায় এলাকার সমগ্র জনসাধারণের একটি অংশ প্রশ্নবিদ্ধ। আসলে কি রেজু মাষ্টার ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করতে চেয়েছিলেন নাকি তালকে তিল বানিয়ে উদ্দেশ্য হাসিলে এসব কর্মকান্ড সাজানো হচ্ছে! এব্যাপারে রেজুর স্বজনরা জানান তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র দীর্ঘ দিনের। ওই মাদ্রাসা থেকে তাকে বের করে দিতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘ সময় ধরে এ চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে ভিকটিমকে হাত করে এ হয়রানী মূলক সাজানো মিথ্যে মামলা দায়ের করেছে। রেজু খুটাখালী কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকতনের পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সম্প্রতি ওই কমিটিতেও দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে যায়। এমনকি ওই বিদ্যালয়ে তার নেতৃত্ব কখনো মেনে নিতে রাজী হয়নি প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ। এ লক্ষ্যে তারা বর্তামান ঘটনার পূর্বেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। অপরদিকে তিনি বৃহত্তর বহলতলী মৎস্য প্রজেক্ট পরিচালনা কমিটির সক্রিয় সদস্য সেখানেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানান। সবমিলিয়ে অন্যায় কর্মে সে প্রতিবাদী ছিল বলে তার বিরুদ্ধে একটি মহল উঠেপড়ে লাগেছে। অবশেষে এই ছোট ঘটনাকে বৃহদাকার রূপ দিয়ে মিথ্যে নাটক সাজিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এব্যাপারে প্রশাষণকে সঠিক তদন্তপূর্বক যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ জানান মামলায় বিবাদীর স্বজনরা।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: খুটাখালীতে রেজু মাষ্টার কি ধর্ষণ করতে চেয়েছিল নাকি ষড়যন্ত্র!
Rating: 5
Reviewed By: Unknown