এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও :
গণশৌচাগার আর হিমাগারের অভাবে জনদূর্ভোগে বন্দী হয়ে পড়েছে ঈদগাঁওবাসী। কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে হিমাগারের অভাবে হাজার হাজার টাকার পন্য নষ্ট সহ চরম দূর্ভোগে পড়েছে কৃষক সমাজ। বৃহত্তর ঈদগাঁও তথা ৬ ইউনিয়নের অর্র্ন্তভূক্ত জালালাবাদ, ইসলামাবাদ, ইসলামপুর, পোকখালী, চৌফলদন্ডী ও আলোচিত ইউনিয়ন ঈদগাঁওতে কবে নির্মাণ হবে হিমাগার তা নিয়ে কৃষদের মাঝে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। জানা যায়, জেলার দ্বিতীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ঈদগাঁও সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতি বছর শুল্ক মৌসূমে অসহায় কৃষকেরা আমন বোরোর পাশাপাশি হরেক প্রজাতির শাক সবজির চাষাবাদ করে আসছে। এ ইউনিয়নের উৎপাদিত কৃষি পণ্যে নিজ এলাকায় খাদ্য ঘাটতি যোগান দেওয়ার পর অবশিষ্ট কৃষিপণ্য ঈদগাঁও সহ জেলার বিভিন্ন গ্রাম-অঞ্চলে সরবরাহ দিচ্ছে কৃষকেরা। এতে করে একদিকে কৃষকেরা আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হচ্ছে, অন্যদিকে এসব ইউনিয়নের কৃষকেরা জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছেন। বেশ কয়েকজন কৃষক দেশ-বিদেশের এ প্রতিনিধিকে- প্রতি বছর জমিতে উৎপাদিত ফসল স্থানীয় বাজারে ভাল ভাবে বিক্রি হয়। তাছাড়া হিমাগারের অভাবে তারা সংরক্ষন করতে না পারায় অবশিষ্ট কৃষিপণ্যগুলো কম মূল্যে দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। আবার অনেক সময় বাজারের মূল্যের তারতম্যের কারণে কৃষিপণ্যগুলো কয়েক দিনে বিক্রি না হলে তা পচে-গলে নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে কৃষকেরা লাভের চেয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানান। সচেতন মহলের মতে, বৃহত্তর ঈদগাঁওতে সরকারী বা বেসরকারী ভাবে কৃষিপণ্য সংরক্ষনের জন্য হিমাগার স্থাপন করা হলে প্রতি বছর কৃষিপণ্যগুলো যথাযথ সংরনের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারলে বছরেই কোটি টাকার বাড়তি আয় করতে পারবে বলেও অভিমত প্রকাশ করে। অন্যদিকে ঈদগাঁওতে হিমাগার না থাকার কারণে এসব কৃষিপণ্যগুলো জেলার বাইরে সংরক্ষনের জন্য অন্য হিমাগারে রাখতে হয় বলে জানান কৃষকরা। এ ব্যাপারে সরকারী ও বেসরকারী পৃষ্টপোষকতা কামনা করেন এলাকার কৃষককূল। অপরদিকে জেলা সদরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক নগরী ঈদগাঁওতে পাবলিক টয়লেট বা গণশৌচাগারের অভাবে জনদুর্ভোগে বন্দি হয়ে পড়েছে ঈদগাঁও বাজারবাসী। যার ফলে প্রত্যন্ত গ্রাম গঞ্জ থেকে ছুটে আসা জনসাধারকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে বৃহত্তর ঈদগাঁওতে সপ্তাহে দুই দিন হাট বাজার। ঐ দুই দিন সাধারণত বাজারে লোক জনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এদিকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ, জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ, কাজী অফিস, ভূমি অফিস ও বিভিন্ন সরকারী অফিস আদালত কিংবা ব্যাংক বীমা ঈদগাঁও বাজারে হওয়াতে সব সময় পুরুষ মহিলাদের আনা গোনা থাকে বাজারে। বিশেষ করে মহিলা পথচারিদের ভোগান্তিতে পড়তে হয় বেশি ভাগই। সরজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও বাজারের বাঁশঘাটা, বাসষ্টেশন, বঙ্গিম বাজার, তেলি পাড়া, মাছ বাজার, তরকারী বাজার, কাচা বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে কোন সরকারী পাবলিক টয়লেট বা গণশৌচাগার না থাকার ফলে নানান দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে পথচারীরা। আগেকার আমলে যে কয়েকটি ছিল তাও অরতি অবহেলিত অবস্থায় প্রভাব শালীদের দখলে চলে গেছে। চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে আসা মহিলাদের সাথে থাকা শিশুদের মলমুত্র চোখে পড়ার মত। ফলে দুর্গন্দের কারণে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরী হয়েছে। বাজারের ক’জন ব্যবসায়ীর মতে, এতবড় ব্যস্ততম বাজারে অন্তত পে একটি হলেও টয়লেট নির্মাণ করে জনসাধারণের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির সহয়তা করার জন্য বাজার কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উর্দ্বতর কতৃপরে কাছে সুনজর দাবী করছে। দূর দূরান্ত থেকে আসা লোকজনের মতে, বৃহত্তর ঈদগাঁও তথা ছয় ইউনিয়নের প্রত্যান্ত গ্রামগঞ্জ থেকে আসা সাধারণ লোকজন ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে দ্রুততম সময়ে পাবলিক টয়লেট বা গণশৌচাগার নির্মাণ করার জোর দাবী।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: ঈদগাঁওবাসী পাবলিক টয়লেট আর হিমাগারের অভাবে চরম দূর্ভোগে
Rating: 5
Reviewed By: Unknown