বাইশারী প্রতিনিধি :
পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতিকে অপসারণ দাবীতে দফায় দফায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনদিন ধরে মানববন্ধনে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়,
উপরস্থ মহলের নির্দেশ অমান্য করে সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের বাড়ীর নিকটবর্তী এক প্রার্থী থেকে ২,৫০,০০০/ (আড়াই লক্ষ) টাকা ঘুষ নিয়ে ২৪শে ফেব্রুয়ারী তারিখে লাইব্রেরীয়ান পদে নিয়োগ দেয়। বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র ৪জন প্রার্থী নিয়ে সাজোনো নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রার্থী আব্দু সাত্তার কে নিয়োগ দেয়।
ইতিপূর্বে গত ১৩ ডিসেম্বর বাইশারী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এহতেশামুল হক এর লিখিত অভিযোগ রয়েছে- বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল হাকিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরী দেওয়ার নামে হারুনুর রশিদ নামের এক ব্যাক্তির কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা আত্মসাত করে।
এ ঘটনায় বান্দরবানে সিআর ৪২/২০১৬ বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও জনৈক সুধাংসু দে চাদাঁবাজি মামলা করে নুরুল হাকিমের বিরুদ্ধে। ২০১৭ শিক্ষা বর্ষে পপি গাই ক্রয়ের নামে বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা আত্মসাত, এসএসসি ফরম পূরণে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় অভিযোগে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি এলজিইডি প্রকৌশলী ও তদন্ত কর্মকর্তা কমল কান্তি পাল জানান- উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশে গ্রন্থাগার পদে অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সংবাদ প্রকাশের ফলে প্রশাসনিক ভাবে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতাদেশ হয় ও গ্রহণকৃত ঘুষের ২লক্ষ টাকা ফেরৎ দিতে বাধ্য হয়।
পরবর্তী আবার নির্দেশ অমান্য করে সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির অপর এক প্রার্থী থেকে ২,৫০,০০০/ (আড়াই লক্ষ) টাকা ঘুষ নিয়ে বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নামে মাত্র নিয়োগ পরীক্ষা চলে। এতে তাদের ওই নির্দিষ্টকরা প্রার্থী আব্দু সাত্তার কে নিয়োগ দেয়। অথচ উক্ত পদের জন্য অত্র বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক মৃত মাষ্ঠার নুরুল হক শাহ্ এর পুত্র মাষ্ঠার জিয়াউল হক স্বল্প বেতনে প্রায় ৪বছর যাবত শিক্ষকতা করে আসছে এবং সেই সাথে লাইব্রেরীয়ান কোর্স সম্পন্ন করেছে। কিন্তু তাকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের কোন সুযোগ দেয়নি।
১। এস.এস. সি পরীক্ষার ফরম ফিলআপের নিয়ম বহির্ভূত ১৪০০/ টাকার পরিবর্তে ৩,৫০০/ টাকা আদায় করা হয়েছে যা বাইশারী মতো প্রত্যন্ত দরিদ্র অঞ্চলে পরিশোধ অত্যন্ত দুর্বিষহ।
২। এস.এস.সি পরীক্ষার প্রবেশ পত্রে টাকা নেওয়ার কোন বিধান না থাকলে ও জনপ্রতি ২০০০/(দুই হাজার) টাকা করে আদায় করা হয় যা বাইশারী মত প্রত্যন্ত দরিদ্র অঞ্চলে পরিশোধ সম্ভব নয়।
৩। ছাত্র-ছাত্রীদের পপি গাইড ক্রয় বাধ্যতামূলক করে তাদের কাছ থেকে ৮০,০০০/(আশি হাজার) টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন।
৪। বিদ্যালয়ে শোভাবর্ধক মেহগনি সহ অন্যান্য গাছ কর্তণ করে বিভিন্ন অজুহাতে বিপুল টাকা আত্মসাৎ।
৫। বাইশারীর মত দরিদ্র অঞ্চলে ভর্তি ফি'র নামে প্রতি ছাত্র ৬০০(ছয়শ টাকা) ভর্তি ফরমের নামে ১০০(একশ টাকা) করে আদায়। এছাড়া বিদ্যালয়ের উন্নয়নের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজে কন্ট্রাকটরী করে এবং বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দিয়েছে অযুহাতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির ফি বাবদ প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। অথচ প্যারা শিক্ষকদের বেতন মাত্র ৪৫০০/ (চার হাজার পাঁচশত টাকা মাত্র।
এমতাবস্তায় উপরোক্ত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের আলোকে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল হাকিম কে অপসারণ করা নাহলে কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলে ঘোষণা দেন তারা। অপরদিকে বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সহ অনিয়মের কথা সত্যতা জানায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আলম কোম্পানি।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: দুর্নীতির অভিযোগে বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতিকে অপসারণ দাবী
Rating: 5
Reviewed By: Unknown