কক্সবার্তা ডেস্ক :
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি কর্তৃক মহা সড়কে থ্রী হুইলার বা সিএনজি চলাচল বন্ধ করাসহ লাইসেন্স প্রদান বন্ধ আছে ২ বছর ধরে। তারিধারাবাহিকতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এই আদেশ বহাল আছে কক্সবাজারেও। কিন্তু সম্প্রতি সেই আদেশ তোয়াক্কা না করে কক্সবাজার বিআরটিএ কর্মকর্তা ইতিমধ্যে কয়েক’শ সিএনজির আবেদন জমা নিয়েছেন। একই সাথে তাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৪০/৫০ হাজার টাকা। সেখানে আবার ব্যবহার করা হচ্ছে জেলা প্রশাসনের নামও। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেই কর্মকর্তা বদলী হলেও এখনো অফিস করছেন কক্সবাজারে। তাই যাওয়ার আগে গোপনভাবে এসব সিএনজির লাইসেন্স দিয়ে যেতে পারে। একই সাথে হাতিয়ে নেবে প্রায় ২০ লাখ টাকা। এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেন, আমি বিআরটিএ কর্মকর্তাকে সব ধরনের লাইসেন্স বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। একই সাথে কাউকে কোন ধরনের টাকা পয়সার লেনদেন না করতে এবং কোন দালাল চক্রের হাতে পড়ে প্রতারিত না হতে পরামর্শ দেন।
কক্সবাজার বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি এর ২০১৪ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তক্রমে পরিচালক এনফোর্সমেন্ট মোঃ মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় কক্সবাজার সহ দেশের সব জেলা শহরে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দূর্ঘটনা কমাতে থ্রী হুইলার বা সিএনজি, ইজিবাইক, নছিমন, কনিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্রাসহ সব যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। সে প্রেক্ষিতে চিঠির প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২০ জুলাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারী কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কক্সবাজার বিআরটিএকে দেওয়া হয়। সেখানে একইভাবে সব ধরনের ঝুকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এর পর থেকে কক্সবাজারসহ সারা দেশে সিএনজি মাহিন্দ্রা এ জাতীয় গাড়ির লাইসেন্স দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। তবে সম্প্রতি সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে বর্তমান বিআরটিএ কর্মকর্তা সিএনজি মাহিন্দ্রা লাইসেন্স দেওয়ার জন্য প্রায় ২০০ সিএনজির লাইসেন্সের আবেদন জমা নিয়েছেন। শুধু তাই নয় তাদের কাছ থেকে লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৪০/৫০ হাজার টাকা করে আদায় করা হচেছ। এখানে মন্ত্রণালয়সহ কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নামেও টাকা আদায় হচ্ছে।
কক্সবাজার সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির সাবেক এক সভাপতি বলেন, আমার কাছে অনেক মালিক এবং চালক জানতে চেয়েছেন সিএনজির লাইসেন্স দেওয়া শুরু হয়েছে কিনা। কারন জানতে চাইলে বলেন কয়েকটি শোরুম এবং কয়েকজন নেতা তাদের কাছ থেকে লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা চাইছেন এখন দেবে কিনা সেটা নিয়ে তারা সন্দেহে পড়েছেন। তিনি বলেন আমি যতটুকু জানি লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ, এখন কিভাবে দেবে সেটা আমি বলতে পারছি না। এ সময় বর্তমান কমিটির এক নেতা বলেন, আমি যতটুকু জানি বর্তমান বিআরটিএ কর্মকর্তা পার্কন চৌধুরী বদলী হয়েছেন। তিনি মৌখিক আদেশে কয়েক মাস কক্সবাজারে আছে এর মধ্যে কয়েকটি শোরুম এবং পাতি নেতাদের নিয়ে একটি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। তিনি ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ আবেদন জমা নিয়েছেন। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে যদি লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ তাহলে আবেদন কেন জমা নেবে ? এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মনজুর এন্ড ব্রাদার্স চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের উত্তরা মটরস, উখিয়ার এক সিএনজি সমিতির নেতা মোস্তাক এসব নিয়ে দালালি করছেন। আমরা আশংকা করছি বিআরটিএ কর্মকর্তা কক্সবাজার থেকে যাওয়ার আগে কোনভাবে জালিয়াতি করে এসব টাকা হাতিয়ে নিতে কাজ করছেন। এবং সেখানে জেলা প্রশাসনের নামও ব্যবহার করছেন। তিনি এর আগেও কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন লাইসেন্স করিয়ে বিপুল টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন। এবং এ কাজে সহযোগিতা করছে নতুন যোগদান করা মোটরযান পরিদর্শক নাছিম হায়দার।
এদিকে এক মন্তব্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রকৌশলী বদিউল আলম বলেন, একটি জেলা শহরে কি পরিমান গাড়ী চলাচল করতে পারবে তার জন্য নিশ্চয়ই একটি নীতিমালা আছে। রাস্তার তুলনায় যদি বেশি গাড়ী চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয় সেটা কোনভাবেই উন্নয়নের জন্য শুভ নয়। আর আমাদের অনিয়ম দুর্নীতির কারনে যে সব উন্নয়ন পরিকল্পনা ভেস্তে যায় সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক নাছিম হায়দার বলেন, কক্সবাজারে আপাতত সিএনজি মাহিন্দ্রা এ জাতীয় গাড়ীর লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ আছে। মূলত সহকারী পরিচালকের নির্দেশে কিছু আবেদন গ্রহন করা হয়েছে। তাদের যখন লাইসেন্স দেওয়া শুরু হবে তখন তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লাইসেন্স পাবে। এখানে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান।
একইভাবে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক পার্কন চৌধুরী বলেন, চাহিদার ভিত্তিতে আবেদন গ্রহন করা হয়েছে। লাইসেন্স যখন উন্মোক্ত হবে তখন দেওয়া হবে। আর টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেন, সিএনজির লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ আছে সেটা আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরে সব ধরনের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখতে আমি বিআরটিএ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। একই সাথে তিনি কোন এজেন্সি বা দালাল চক্রের হাতে টাকা দিয়ে প্রতারিত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
c
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: কক্সবাজারে বন্ধ সিএনজি লাইসেন্স দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিআরটিএ
Rating: 5
Reviewed By: Unknown