• Latest News

    লামায় জমি জবর দখল করতে না পেরে সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টায় সংঘবদ্ধ চক্র


    নিজস্ব প্রতিনিধি :
    জমি দখল করতে না পেরে একটি বহিরাগত সংঘবদ্ধ চক্র বান্দরবানের লামা উপজেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সংঘবদ্ধ চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন- কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা বজেন্দ্র মহাজনের ছেলে অর্পন মহাজন ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর বাজার এলাকার তয়েরা মুরুয়ের ছেলে চম্পাত মরু। শুধু তাই নয়, সংঘবদ্ধ চক্রটি জমি দখল করতে না পেরে বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুরের মত স্পর্শকাতর মিথ্যা ঘটনার সৃষ্টি করে গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মুখ সড়কে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রেরন করে। এ ধরণের স্পর্শকাতর ঘটনা রটিয়ে রাজপথে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করায় সচেতন সমাজ বিস্ময় প্রকাশ করেন। এদিকে মিথ্যা অভিযোগ এনে সম্প্রীতি বিনষ্ট করে জমি দখল চেষ্টার অভিযোগে জমির মালিকের ছেলে এস.এম আজিজ প্রতিকার চেয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরা হলো- বনপুর বাজার এলাকার মৃত জোগেন্দ্র ধরের ছেলে রিংকু বাবু ধর, মে অং মার্মার ছেলে মংথোয়াইচিং মার্মা, রাঅং হেডম্যানের ছেলে লাংকম মুরুংসহ অজ্ঞাত নামা আরও ১০-১২জন।
    স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ২৮৫নং সাঙ্গু মৌজার ১৬১নং হোল্ডিং মূলে ৫ একর জমির মালিক হন মাষ্টার জয়নাল আবেদীন। পাশে একই সময় ২০৪ নং হোল্ডিং মূলে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার ৫ একর দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর জমি বন্দোবস্তি পায়। বন্দোবস্তিকৃত এসব জমির উপর খামার ঘর, ফলজ ও বনজ গাছের বাগান সৃজন করে ৩০-৩৫ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছেন। হঠাৎ করে পাশ্ববর্তী জমির মালিক ইমারত হোসেনের কেয়ার টেকার অর্পন মহাজন লোকজন নিয়ে ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট মো. জাকের হোসেন মজুমদার ও জয়নাল আবেদীনের খামার ঘর ভেঙ্গে দিয়ে সৃজিত রাবার, সেগুন, একাশিয়া, আম, কলাসহ বিভিন্ন জাতের গাছের চারা কেটে জবর দখল করার চেষ্টা করে। এতে না পেরে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে গীর্জা ভাঙ্গার সংবাদ পত্রিকায় পরিবেশন করে প্রশাসনের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে ওই সংঘবদ্ধ চক্রটি। পরে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৮ আগষ্ট গন্য ব্যক্তিবর্গ সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পায়নি। সম্প্রতি চক্রটি পূণরায় জায়গা দখলে নেয়ার জন্য হঠাৎ মথাচড়া দিয়ে বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুরসহ চুরির মত স্পর্শকাতর ঘটনার রুপ দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুুপার, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ সরজমিন পরিদর্শন করে সত্যতা পায়নি বলে জানা গেছে।
    লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী এস.এম আজিম আরও জানায়, অভিযুক্তরা সম্প্রতি তার বাবার নামীয় ও ভোগদখলীয় জমিতে সৃজিত ২০০টি আম গাছ কেটে নিয়ে যায় এবং চার লক্ষ টাকা চাঁদা দিলে আর মন্দির নির্মাণ বা জমি নিয়ে ঝামেলা করবেন না। চাঁদার টাকা না দিয়ে জমিতে গেলে অপহরন পূর্বক হত্যা করবে বলেও হুমকি দেয়। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা মামলা, অভিযোগ ও সাংবাদিক সম্মেলন করে সুনাম ক্ষুন্ন ও মানহানি করে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করছে অভিযুক্তরা। এসব থেকে রক্ষা পেতে শনিবার বান্দরবান জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় আবুল কালামসহ ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, মূর্তি ভাংচুরের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ঘটনাস্থলে কখনো বৌদ্ধ মন্দির কিংবা কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছিলনা। একটি মহল স্থানীয়দের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা নষ্টের পাশাপাশি জমি দখলের পায়তারা করছে মাত্র। তারা আরও জানান, ২০১৫ সালে অর্পন মহাজন নামের এক ব্যক্তি বনফুর এলাকায় প্রবেশ করে কিছু মুরুং ও ত্রিপুরা সম্প্রদায় নিয়ে গীর্জ-মন্দির ও ক্যায়াং করার নামে জমি জবর দখলের চেষ্ঠা করছে।
    এ বিষযে অভিযুক্ত অর্পন মহাজন বলেন, আমরা কারো জমি দখলের চেষ্টা করছি না। জমিটি খাস, তাই আমাদের উদ্দেশ্য হলো- ধর্মীয় স্বার্থে খাস জাযগায় মন্দির, গীর্জা ও বৌদ্ধ বিহার নির্মান করা। তবে বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুর কিংবা চুরির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মজুমদার জানায়, মূর্তি ভাংচুর বা জবর দখলের কোন ঘটনা ঘটেনি। অর্পন মহাজন গং কাল্পনিক ঘটনার রুপ দিয়ে ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করে আমাদের দীর্ঘলালিত সম্প্রীতিনষ্টের চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালেও একইভাবে মিথ্যাচার করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ফল পায়নি ওই চক্রটি।
    লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদ মাহ্্মুদ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কথিত মূর্তি ভাংচুর কিংবা চুরির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
    (অ.র)

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: লামায় জমি জবর দখল করতে না পেরে সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টায় সংঘবদ্ধ চক্র Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান