• Latest News

    বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ বন্ধ, ঘুম নেই উপকূলবাসীর


    কক্সবার্তা ডেস্ক:
    অচল এস্কেভেটার পড়ে আছে বাঁধের চূড়ায়। বাঁধের খুব কাছেই মাটি কাটার গর্ত। জোয়ার-ভাটা আর বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি ধসে ভরছে সেই গর্ত। বাঁধের পাশে পড়ে আছে কংক্রিট-সিমেন্টের তৈরি ব্লকের স্তূপ। যে দুজন স্থানীয় লোক এসব পাহারা দিচ্ছে তাদেরও বেতন নেই দুই মাস হলো।
    বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিআইডব্লিউটিএর জেটিঘাট এলাকার বেড়িবাঁধের দৃশ্য এটি। ২৫১ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় বাঁশখালীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে এখানেও কাজ শুরু হয়েছিল। কিছু ব্লক নির্মাণ ছাড়া বাঁধে মাটি ভরাটের দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি দুই বছরেও। এখন বর্ষা মৌসুমের অজুহাতে কাজই বন্ধ রেখেছে ঠিকাদাররা।
    আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দরপত্রের শর্তানুযায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে সন্দিহান এলাকাবাসী। বাপ-দাদার বসতভিটা, জমি-জিরাত ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার চিন্তায় ঘুম হারাম অনেকের। আবহাওয়া অফিসের ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত বাড়লে অনেকে আশ্রয় নেন পাহাড়ি এলাকায় স্বজনদের কাছে।
    ছনুয়া এলাকার জাকের হোসাইন জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। সাগর উত্তাল হলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। বর্তমান সরকার বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি আমাদের জন্য সুখবর হলেও দেড় বছরেও দৃশ্যমান কাজ খুব বেশি হয়নি। ছনুয়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মাটি ভরাট করে যে বাঁধ নির্মিত হয়েছে, তা অরক্ষিত। বাঁধের পাশ থেকে মাটি নিয়েই এ বেড়িবাঁধ বাঁধা হয়েছে। জোয়ারের পানিতেই এ বাঁধের মাটি সরে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েক জায়গায় ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকছে।
    ‘কখন যে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা পাব?’ শঙ্কা প্রকাশ করলেন জাকের।
    স্থানীয় মো. আমির হামজা জানান, বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু ধীরগতির কাজে এখন হতাশ। মাতবরপাড়া থেকে কুতুবখালী ১ নম্বর পাড়া পর্যন্ত মাটি ভরাট করে বাঁধ নির্মিত হয়েছে। তবে বাঁধের পাশ থেকে মাটি নেওয়ায় তা টেকসই হচ্ছে না। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে বাঁধটির কিছু কিছু জায়গায় ভেঙে গেছে।
    নুরুল হোসাইন জানান, মাটি ভরাট করে যে বাঁধ নির্মিত হচ্ছে তা লুটপাটের একটি অংশ। আমরা চাই জীবনের নিরাপত্তা।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানালেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছনুয়া এলাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছেন তারা এলাকায় খুব একটা আসেন না। স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টে মাটি ভরাটের কাজ করিয়েছে। যে পরিমাণ কাজ করার কথা ছিল, তা করা হয়নি। সে তার ইচ্ছেমতো মাটি ভরাট করেছে।
    ছনুয়া ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল ওয়াজেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘যখনই সরকার বেড়িবাঁধ নির্মাণে আড়াইশ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়, তখন আমাদের মাঝে স্বস্তি নেমে আসে। আমার ওয়ার্ডের প্রায় ৩ হাজার মানুষ জীবনঝুঁকিতে আছি। যে বাঁধ নির্মিত হচ্ছে, তা টেকসই হচ্ছে না। ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম মানা হচ্ছে না। নোনা পানি দিয়ে ব্লক তৈরি করছে। তৈরি করা ব্লকগুলো দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে তা টিকবে না। আমরা চাই টেকসই ও মজবুত বেড়িবাঁধ।
    বাঁধের নাপিতখালীর পাইপ দিয়ে আসা জোয়ারের পানিতে দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে জানিয়ে ছনুয়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল কাদের বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের এলাকার জনসাধারণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সাগর উত্তাল হলেই লোকজনের মধ্যে প্রাণ হারানোর শঙ্কা ভর করে। দীর্ঘস্থায়ী বেড়িবাঁধ না হলে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা হবে না। কিছু এলাকায় টিউবওয়েল না থাকায় রয়েছে সুপেয় পানির অভাবও।
    ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবু তাহের জানান, আমার ওয়ার্ডের চেমটখালী এলাকায় এখনো কোনো কাজ হয়নি বেড়িবাঁধের। এই এলাকার মানুষ অবহেলিত। ১৯৯১ সালের পর থেকে এই এলাকায় কোনো কাজ হয়নি বলেও জানান তিনি।
    ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. রবিউল আলম মৌলভীপাড়া এলাকার বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ ভালো হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন।
    সরকারের বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম হারুনুর রশিদ জানান, ৪৫ হাজারের বেশি জনসংখ্যার ছনুয়া ইউনিয়নের চতুর্দিকে ৩১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে উত্তর-দক্ষিণের ১১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মিত হচ্ছে। এতে ৭ কিলোমিটার এলাকা সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ছনুয়ার ৪, ৫, ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন সাগরে।
    তিনি আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ২ বছর আগে কার্যাদেশ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো মাটি ভরাটের কাজই সম্পন্ন করতে পারেনি। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে যে ব্লক বানানো হচ্ছে, তা-ও মানসম্পন্ন হচ্ছে না। কেননা, কিছু ক্ষেত্রে তারা বালু ও নোনা পানি দিয়ে ব্লক তৈরি করছে। যা কিছুদিন যেতে না যেতেই ভেঙে যাবে।
    ‘আমি ইতিমধ্যে পাউবি ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবহিত করেছি। যাতে মানসম্পন্ন ব্লক তৈরি করা হয়।’ যোগ করেন হারুনুর রশিদ (বাংলা নিউজ)

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ বন্ধ, ঘুম নেই উপকূলবাসীর Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান