কক্সবার্তা ডেস্ক:
আপন জুয়েলার্স থেকে জব্দ করা সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণের পুরোটাই অবৈধ। তাই তাদের সব স্বর্ণই জব্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।
শনিবার (৩ জুন) তিনি বাংলানিউজকে এ খবর নিশ্চিত করেন।
মইনুল খান জানান, আপন জুয়েলার্সের ৫টি শোরুম থেকে সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণ আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করা হচ্ছে। কেননা বিগত ২০ দিনে আপন জুয়েলার্স শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি। এজন্য তাদের জব্দকৃত স্বর্ণ ও ডায়মন্ড পুরোপুরি জব্দ করা হচ্ছে।
রোববার সকাল ৯টায় সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতেই এই স্বর্ণ জব্দ পর্ব সমাধা হবে।
জব্দকৃত স্বর্ণ ঢাকা কাস্টম হাউসের শুল্ক গুদামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দকৃত স্বর্ণ ও ডায়মন্ড কি করা হবে তা নির্ধারণ হবে শুল্ক আইনে।
তিনি আরো বলেন, আপন জুয়েলার্সকে তাদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বা আত্মপক্ষ সমর্থনে ৩ বার শুনানির সুযোগ দিলেও তারা কোনপ্রকার বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি। এছাড়া আপন জুয়েলার্সের মালিকপক্ষের দেয়া ১৮২ জনের তালিকার মধ্যে ৮৫ জন প্রকৃত গ্রাহককে মেরামতের জন্য জমা রাখা প্রায় ২.৩ কেজি স্বর্ণালঙ্কার অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০মে) আপন জুয়েলার্সের জব্দকৃত সাড়ে ১৩মন স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের বিষয়ে প্রায় ১২৫ কেজি স্বর্ণের কাগজপত্র দেয়। যে স্বর্ণগুলো ব্যাগেজ সুবিধায় আনা হয়েছে সেই সব স্বর্ণের কাগজপত্র দেয় আপন জুয়েলার্স। শুধু তাই নয়, আপন জুয়েলার্স ১২৫ কেজি স্বর্ণের বিষয়ে ৬২৫ জন গ্রাহকের তথ্য দেয়। কিন্তু ব্যাগেজ সুবিধায় আনা স্বর্ণ শুধুমাত্র গ্রাহক তার নিজের ব্যবহার করার জন্য স্বর্ণগুলো আনতে পারেন। সেখানে আপন জুয়েলার্স দেখিয়েছেন, গ্রাহকের আনা স্বর্ণগুলো তারা ক্রয় করেছেন। ফলে শুল্ক গোয়েন্দা গ্রাহকের কাগজপত্রগুলো চেকিং করে দেখেছে তথ্যগুলো সম্পর্ণ ভুল।
এছাড়া একই দিন ৩০ মে শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আপন জুয়েলার্সের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাইফুল সিরাজ বলেন, তারা প্রায় ৭০-৮০ কেজি স্বর্ণের কাগজপত্র দেখিয়েছেন। পরে আবার বলেন, প্রায় ৫০ কেজি স্বর্ণের কাগজ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে শুল্ক গোয়েন্দা জানায়, তারা ১২৫ কেজি স্বর্ণের হিসাব দিয়েছেন। কাজেই আপন জুয়েলার্স শুল্ক গোয়েন্দায় যে হিসাব দেয় সেটা তারা নিজেও জানে না।
শুল্ক গোয়েন্দা গত ১৪-১৫ মে আপন জুয়েলার্সের ৫টি শোরুম থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণালংকার ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড সাময়িকভাবে জব্দ করে।
এদিকে সোনা ব্যবসায় মূল্য সংযোজন কর (মূসক) নিবন্ধন নম্বর থাকলেই বৈধভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলে মোট দামের ৪ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করে সোনা আমদানি করা যায়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে ব্যাংকের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে এক তোলা স্বর্ণও আমদানি হয়নি। সোনা আমদানির অনুমতি চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি মাত্র আবেদনপত্র জমা আছে। যা কিছু রাজস্ব আদায় হয়েছে ব্যাগেজে আনা সোনায়। ফলে চুরাই সোনাই চলছে জুয়েলারী ব্যবসা।
শুল্ক গোয়েন্দা আরও বলছে, দেশে যখন স্বর্ণ আমদানি হয় না তাহলে আপন জুয়েলার্স এতো স্বর্ণ কোথায় পেল, কোন উৎস থেকে এই স্বর্ণগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে? কাজেই এখানে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে, আপন জুয়েলার্স দীর্ঘ ৪০টি বছর ধরে অবৈধ স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছেন। নতুবা তাদের জব্দকৃত স্বর্ণের কোনো বৈধ কাগজপত্র কেন দেখাতে পারলেন না।
আপন জুয়েলার্সের জব্দকৃত স্বর্ণের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক দিলদার আহমেদ রাতে বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের কাছে জব্দকৃত স্বর্ণের বিষয়ে যে কাগজ ছিলো সেগুলো শুল্ক গোয়েন্দায় জমা দিয়েছি। এখন তারা যদি অবৈধ বলে তাহলে আমাদের কিছুই করার নেই।
nbফাইল ছবি
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: আপন জুয়েলার্সের একরতি স্বর্ণও বৈধ নয়
Rating: 5
Reviewed By: Unknown