ইউছুফ আরমান :
সারাদেশ জুড়ে ইয়াবা ও মরণ নেশার আগ্রাসনে ধ্বংস যুব সমাজ। আধুনিক সভ্যতাগর্বী আজ দেশ ও জাতি ইয়াবা ও মাদকাসক্তি মরণ ছোবলে ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিপতিত হয়েছে। মাদকাসক্তি হলো বর্তমানে ইয়াবা, মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল,হিরোইনের প্রতি আসক্তি, মাদকাসক্তি সেবনের তীব্র আকাংক্ষা। যে দ্রব্য নেশা সৃষ্টি করে, সুস্থ মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটায় এবং নেশাগ্রস্থ ব্যক্তিদের জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি কে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করে তাকে মাদকদ্রব্য বলে। কাজেই মাদকদ্রব্য হলো মাকদতা বা নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্য আর প্রতি তীব্র আগ্রহ ও আসক্তিই হচ্ছে মাদকাসক্তি।
যুব সমাজের অবক্ষয়ঃ- প্রত্যন্ত অঞ্চলভেদ কক্সবাজার জেলায় ইয়ারা প্রচার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল সহ নিম্নমধ্যবিত্ত বা নিম্নশ্রেণীর দিনমজুর পর্যন্ত ইয়াবায় আসক্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্কুলের ছোট ছোট ছাত্রদের কাছে ইয়াবা বিক্রয় করা হয় বলে পত্র-পত্রিকায় এসেছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ঢাকা নগরীতেই প্রতিদিন ১৪ লাখ ইয়াবার চাহিদা। চট্টগ্রামে মহানগরীতে এর চাহিদা ৮ লাখ আর কক্সবাজারে ৪ লাখ | স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় এবং দিনমজুর উঠতি ছেলেমেয়ে এখন ইয়াবা আগ্রাসনের শিকার। ইয়াবা ভাসছে অলিতে গলিতে। বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী প্রতি ওয়ার্ডে ২০০'র বেশি ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে। জানা যায়, হাতে খরচের টাকা বেশি পাওয়া ছেলেমেয়েরাই এখন ইয়াবার নেশায় আসক্ত। এমনকি ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবি, তরুণ ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীদের কাছেও ইয়াবা ভীষণ প্রিয়। এ ভয়াবহ মাদক 'ইয়াবা' নিয়ে সরকারসহ দেশবাসী উদ্বিগ্ন হলেইবা কি আসে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে চলছে অলিগলিতে বেচাকেনা। এমন লাভজনক ব্যবসায় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শেষ হলেইবা কি! এর বিরুদ্ধে কোথাও সাঁড়াশি অভিযান নেই। কারণ এটা বন্ধ হলেই যে বখরা বা চাঁদার মোটা অংক আদায় হবে না। সন্ধ্যা নামলেই কলাতলী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, দক্ষিণ সাহিত্যিকাপল্লীসহ বিস্তীর্ণ এলাকার অলিগলিতে উঠতি ছেলেমেয়েরা যেখানেই জড়ো হচ্ছে সেখানেই চলছে ইয়াবা সরবরাহ। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে এক সময় হেরোইনসেবীদের সংখ্যা বাড়ত। এখন ইয়াবা আসক্তদের নিয়ে আসছেন অভিভাবকরা শাড়ির আঁচলে অসহায় মায়েরা অশ্রুতে চোখ মোছেন নীরবে। বাবার বুকে গভীর বেদনা- দীর্ঘশ্বাস। সন্তানকে নিয়ে দেখা বড় বড় স্বপ্ন এখন ইয়াবার কারণে দুঃস্বপ্ন হয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজারে এমএলএম (মাল্টিলেভেল মার্কেটিং) পদ্ধতিতেই চলছে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। এ পর্যন্ত অসংখ্য ইয়াবার চালান মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচার করার সময় বিজিবি ও র্যাব সহ বিভিন্ন আইন সৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে। বিগত দিনের রেকর্ড হিসেবে এটাই বলা যায় যে, ইয়াবা পাচার বাংলাদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের রেকর্ড পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে ইয়াবার বিরাট মার্কেট তৈরী হয়েছে, অর্থাৎ যুব সমজের বিরাট একটি অংশ ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে যা একটি দেশের জন্য অশনি সংকেত। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি অতি সম্ভাবনার দেশ। বর্তমানে প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যা অর্ধেকের বেশী ই যুবক এবং কর্মাক্ষম, যেখানে অনেক উন্নত দেশেই বয়স্ক লোকের সংখ্যা বেশী এবং কর্মাক্ষম লোকের অভাব। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে গত ২০০৭/৮ সাল থেকে সারা বিশ্ব একটি অর্থনৈতিক মন্দায় আক্রান্ত হয়েছে যেখানে বাংলাদেশের মত একটি দরিদ্র দেশে তার তেমন কোন ছোয়া লাগেনি। তার একটি মাত্র কারন আমাদের যুবসমাজের একটি বড় অংশ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন যা দিয়ে বিশ্ব মন্দাকে দুরে ঠেলে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং আরেকটি যুব সমাজ দেশে পরিশ্রম করে উৎপাদিত পন্য বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। এই যুব সমাজ যদি ইয়াবা বা মাদকের কারনে ধ্বংশের দিকে ধাবিত হয় তবে দেশের অতিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবেনা। আজকের যুব সমাজ তথা বাংলাদেশ কে একটি উন্নত দেশে পরিনত করে বিশ্বায়নের স্বাদ নিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে ইয়াবা(মাদক) পাচার ও ব্যবহার বন্ধের কোন বিকল্প নেই।
আর্থিক ক্ষতির শিকারঃ- যেহেতু মাদকাদ্রব্য দুষ্প্রাপ্য এবং দামী। সেহেতু মাদকদ্রব্যের অর্থের যোগান দিতে চুরি, ডাকাতি,ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুনের মতো অপকর্মে লিপ্ত হতে দ্বিধাবোধ করছে না যুব সমাজ। তাছাড়া মাদক সেবন করে গাড়ি দুর্ঘটনা সহ অনেক ঘটনার নেপথ্যেই থাকে মাদকাসক্তির অশভ প্রভাব। শুধু তাই নয় মাদকাসক্তি এক ভয়ংকর অভিশাপ। এমতাবস্থায় মাদক দ্রব্য বা ইয়াবার ছোবলে এদেশের যুব সমাজ ধ্বংস হলে বাঙালির হাজার বছরের অর্জন ধুলায় মিশে যাবে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লক্ষ্য শহীদের আত্মার অসম্মান করা হবে। কাজেই ইয়াবার মত অভিশাপ কে চিরতরে দুর করতে সরকারী,বেসরকারী ও সামাজিক ভাবে ইয়াবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করতে হবে।
লেখক-
ইউছুফ আরমান
ফাজিল, কামিল, বি.এ অনার্স
এম.এ, এলএল.বি
দক্ষিণ সাহিত্যিকাপল্লী
বিজিবি স্কুল সংলগ্ন রোড়
৬নং ওয়ার্ড, পৌরসভা, কক্সবাজার
০১৮১৫৮০৪৩৮৮/ ০১৬১৫৮০৪৩৮৮
ছবি-ফাইল থেকে সংগ্রহীত