অনলাইন ডেস্ক :
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শেফালী বেওয়াকে গ্রাম্য শালিসি বৈঠক ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিনিময়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়। বিষয়টি নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করলে ভিকটিমকে প্রাণ নাশেরও হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চর হাটবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মৃত আঃ হালিম ওরফে হালিম সাধুর বিধবা স্ত্রী শেফালি বেওয়া ও মাঝি পাড়ার মনি বর্মনের ছেলে ধর্ষক মতি বর্মনকে নিয়ে।
ভুক্তভোগী’র অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চর পাড়া গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হালিম ওরফে হালিম সাধুর প্রথম স্ত্রী আঙ্গুরী বেগমকে তালাক দিয়ে হাটবাড়ী উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের দ্বিতীয় মেয়ে প্রতিবন্ধী শিফালীকে বিয়ে করেন। কিছুদিন ঘর সংসার করার পর ৪ বছর আগে আঃ হালিম হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মারা যান। অসহায় অবস্থায় শেফালী বেওয়া ১০ মাস আগে হাটবাড়ী গ্রামের পাশে ঝিনাই নদীর তীরে গুচ্ছ গ্রামের একটি ঘরে গিয়ে ওঠেন।
এখানেই প্রতিবন্ধী শেফালির সাথে চর হাটবাড়ী গ্রামের মাঝি পাড়ার সংখ্যা লঘু পরিবারের ২ সন্তানের জনক মতি বর্মনের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মতি বর্মন জোর পূর্বক শেফালীকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে প্রতিবন্ধী শেফালী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ৮ মাস পর ঘটনাটি প্রকাশ পেলে গত ৩ মে সকাল ১০ টায় স্থানীয় মেম্বার রুবেলের সভাপতিত্বে মাঝি পাড়ার কমল বর্মনের বাড়ীতে গোপনে শালিস বৈঠক বসে। শালিস বৈঠকে শেফালির গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য মতি বর্মনের নিকট থেকে বৈঠক ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।
এদিকে শালিসের পরদিন ৪ মে শিফালী বেওয়ার গর্ভে অবৈধ সন্তান নষ্ট করার জন্য হাটবাড়ী গ্রামের মৃত হানিফ উদ্দিনের ছেলে রুবেল মেম্বার, মৃত আব্দুলের ছেলে ড্রেজার বাবু ও দুদু মিয়ার ছেলে ছোট বাবু এই তিনজন মিলে তাকে নিয়ে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই হাসপাতালে শেফালি বেগমের গর্ভে ধারণ করা ৮ মাসের একটি কন্যা সন্তান ঔষধের দ্বারা গর্ভপাত ঘটানো হয়।
গর্ভবতীর ছোট বোন হাসপাতালে রোগীর পাশে থাকা শাপলা বেগম ইত্তেফাককে জানান, মেয়েটি মৃত নাকি জীবিত জম্ম নিয়েছে তা আমি জানি না তবে হাসপাতালের এক নার্স বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। তিনি আরো জানান, জরিমানার ২০ হাজার টাকার মধ্যে একটি টাকাও আমার বোনকে দেওয়া হয়নি। পক্ষান্তরে শালিস বৈঠকের মাতাব্বরগন ও চরপাড়া ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান মেম্বার ভিকটিমকে ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
এদিকে মেম্বার রুবেল ও আনিছ উভয় মেম্বারের নিকট চিকিৎসার টাকা ও ন্যায় বিচার না পেয়ে গতকাল বুধবার সরিষাবাড়ী প্রেস ক্লাব,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সহ বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। এদিকে শালিস বৈঠকের মাতাব্বর ড্রেজার বাবু ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে ইত্তেফাককে জানান, মতি বর্মন নিজে দোষ স্বীকার করায় তার নিকট হতে আমরা ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছি এবং সেই টাকা আমি সাথে সাথে শালিস বৈঠকের সভাপতি রুবেল মেম্বারের হাতে দিয়েছি। এ সময় মেম্বার আনিছুর রহমান, বাদল, আইনাল হক, বাবু সংখ্যা লঘু পরিবারের কমল বর্মন, হরে কৃঞ্চ বর্মন সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল বলেন, আমি এলাকার মেম্বার হিসেবে যা করেছি তা ভালোর জন্যে করেছি। এক জাতি হলে না হয় বিয়ে পড়িয়ে দিতাম কিন্তু একজন হিন্দু আর একজন মুসলমান তাদের জাতই ভিন্ন । কাজেই আমরা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটাই সঠিক। আপনারা লেখালেখি করে যা পারেন তাই করেন। মেম্বার আনিছের সাথে মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে, হুমকি দিয়ে বলেন এ বিষয় নিয়ে লেখালেখি করলে বেশি ভালো হবে না।
এলাকায় আসলে সমস্যা হবে বলে হুমকি দেন। সরিষাবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন জানান, এটা একটা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, ঘটনা, ঘৃন্য এবং অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে অপরাধীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তিরও দাবী জানান তিনি। তিনি আরো দু:খ করে বলেন, মৃত আঃ হালিম ওরফে হালিম সাধু ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ন্যায় নিষ্ঠাবান সাধু মানুষ । তার স্ত্রীও একজন প্রতিবন্ধী মহিলা। তার প্রতি এই অন্যায় আমরা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
ইত্তেফাক//ফাইল ছবি
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: ধর্ষণ-জোর করে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাত, জরিমানা ২০ হাজার টাকা
Rating: 5
Reviewed By: Unknown