• Latest News

    ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল কুতুবদিয়া মালেক শাহ হুজুরের কারামত


    এহসান আল- কুতুবী :
    প্রচন্ড ঝড় আর বাতাস। বাড়ি থেকে একটু দূরে ষ্টেশন। সেদিন সবাইকে দেখছি কেন জানি রেড়িও নিয়ে ব্যস্ত ছিল। সবার মূখে শুধু শুনতে পেলাম তুফান হবার কথা। তখন এখনকার সময়ের মত অতটা বিল্ডিং ছিলনা। যা ছিল তাও গুটি কয়েক। তখন সবচেয়ে বড় বিল্ডিং বা দেড় তলা পাকা ঘরটি ছিল মালেক শাহ হুজুরের বাড়ি। পাশে একটি স্কুলও ছিল। দেখতে লাগলাম সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসছে, মানুষের সমাগমও বাড়ছে। সবাই মালেক শাহ হুজুরের ওই বিল্ডিং বাড়িতে উঠার জন্য প্রস্তুত। এখানে আরেকটি বিষয় যোগ করছি সেটি হচ্ছে মালেক শাহ হুজুরের ওই বাড়িটিতে ছাদে উঠার কোন সিড়ি তিঁনি রাখেননি পর্দার খাতিরে। তাই , সবাই ওই দিন বড় বড় বাঁশের মই বানিয়ে সিড়ি বানিয়ে মানুষ উঠার জন্য ব্যবস্থা করে রেখেছিল। ঠিক মাগরিবের পর আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে ওই বিল্ডিং এ গেলে দেখতে পাই লোকে লোকারন্য হয়ে গেছে। তখন আমি ও আমার মা, নানু, মামারা সবাই ভেতরে আমার এক নানুর রুমে যায়। আমি দরজার পাশে দাড়িয়ে অনুভব করলাম প্রচন্ড ঝড়ের তীব্রতা। তখন নানাভাই শাহজাদা সৈয়দুল মিল্লাত আল-কুতুবী রেড়িওর সাথে ছোট ছোট মাইক ফিটিং করে সবাইকে খবর ও সুন্দর সুন্দর না’ত শুনাচ্ছিলেন। অনুমানিক ঠিক ৯টার দিকে হয়তো খবর আসল পানি তীব্র গতিতে আসবে ও অবশ্যই অনেক বেশি পানি হবে। তার কিছুক্ষনে আমাদের ছাদে তোলা শুরু হল। প্রথমে সবাইকে বড় (চানছিট)’র মধ্যে তুললেও পরে খবর হয় অনেক বেশি পানি হবে তাই ছাদে তুলে ফেলল। তখন আমার নানার কাছে শুধু একটি আওয়াজ শুনতে পাই (আমার গুরাবাজি হডে) আমার ছোট আব্বা কোথায়। তখন খবর পেলাম বড় আব্বা মালেক শাহ হুজুর নাকি বলছে জিক্কার বলা ইক্কা যা। উনাকে যখন সবাই ছাদে আনার জন্য নানারা গেলেন, তখন উনি বলতে লাগলেন, আমি আমার কাজ করতেছি। আমাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করনা। আমি আল্লাহর কাজে ব্যস্ত। উনি তখন ছিলেন খুব গরম অবস্থায়। পরে নানারা নিরুপাই হয়ে ফিরে আসেন। মালেক শাহ হুজুর তখন পাটিতে বসে বসে আল্লাহর কাজে মশগুল ছিলেন। শুনেছি উনি তখন একটু উচু স্খানে বসে বসে খোদার কাজে মশগুল ছিলেন। উনি যে রমে বসে ছিলেন, তার অনেক উপরে পানি উঠেছেন। উনার বাড়ির চারিদিকে একটা ওয়াল ছিল উচু। ওই ওয়ালটাতে নাকি পানির ধাক্কাটা জোরে লাগাই ভেঙ্গে গিয়ে সবকিছু বেচে যায়। উনার বাড়ির আর কোথাও তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। সকালে আমাদের সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। খাবার গুলোও ছিল সব লবনাক্ত, পানি লবনাক্ত, ভাত লবনাক্ত। কোন রকম প্রান বাঁচাতে খাওয়া।
    এখন, শেষ কথা হচ্ছে আল্লাহর এ মহান অলি ইচ্ছা করলে আমাদের সাথে মরনের ভয়ে ছাদে উঠতে পারতেন। কিন্তু, তিঁনি যাননি। তিঁনি সবাইকে বাচাতে আল্লাহর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ওনার হুক্কা ছিল, ওই হুক্কার আগুন সারারাত নিভলনা। যে হুক্কার ধোঁয়া কেউ কখনো দেখেনি।
    আল্লাহর অলিদের কোন ভয় নেই, তারা দুনিয়াতে যেমন বাদশাহ তেমনি পর্দার আড়ালে চলে যাওয়ার পরেও বাদশাহ। তারা দুনিয়ায় থাকতে যেমন আল্লাহর কাছ থেকে সবকিছু নিয়ে দিতে পারেন, তেমনি ওফাতের পরও দিতে পারেন আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে।আল্লাহ তাদেরকে সব সৃষ্টির কল্যানে প্রেরন করেছেন।
    ২৯ এপ্রিল শাহাদত বরনকারী সকলকে আল্লাহ তায়ালা শহীদি মর্যাদা দান করুক । আমিন ।

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল কুতুবদিয়া মালেক শাহ হুজুরের কারামত Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান