হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ :
মায়ের খোঁজ করতে এসে ছেলে সাড়ে ৪ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এখন নিখোঁজ ছেলের জন্য মা দিশেহারা। এদিকে আবার নিখোঁজ ছেলের স্ত্রী সন্তান সম্ভাবা। এক শিশু পুত্র নিয়ে নিখোঁজ স্বামীর জন্য স্ত্রী পাগলপ্রায়।
১৪ মার্চ দুপুরে দিশেহারা মা আরেফা বেগম নিখোঁজ ছেলের ছবি নিয়ে এ প্রতিবেদকের গ্রামের বাড়িতে হাজির হন। বর্ণণা দেন নিখোঁজ পুত্রের। তিনি জানান মিয়ানমারের মংডু থানাধীন বাঘঘুনা গ্রামে তাঁদের বসবাস। মিয়ানমার সেনাদের অভিযানে স্বামী আকবর আলী ও পুত্র মুফিজুর রহমান মুফিজ (২৬) পালিয়ে যান। সন্তানদের বাঁচার তাগিদে আরেফা বেগম প্রতিবেশী রোহিঙ্গাদের সাথে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।
এদিকে পরিস্থিতি ও সুযোগ বুঝে মিয়ানমার সেনাদের দৃষ্টি এড়িয়ে পুত্র মুফিজুর রহমান মুফিজ (২৬) বাড়ি এসে দেখেন মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান কেউ নেই। তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার খবর পেয়ে মুফিজ মায়ের খোঁজে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে পৌঁছে প্রতিবেশীদের কাছে মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান চট্রগ্রামে থাকার খবর পেয়ে মায়ের সন্ধানে চট্রগ্রামে ছুটেন। পথপ্রদর্শক হিসাবে সাথে ছিল অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা মিয়ানমারের ফ’খালীর বাসিন্দা মোঃ আমিনের পুত্র নুরুল হক এবং কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের ‘ই’ ব্লক ১৫/৩ এর নিবন্ধিত রোহিঙ্গা এমআরসি নং-৬১৩০০ মুস্তফিজুর রহমানের পুত্র খাইরুল আমিন। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর চট্রগ্রামের সিনেমা প্যালেসের সামনে থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়।
মা আরেফা বেগম আরও জানান প্রতিবেশী রোহিঙ্গাদের কাছে তিনি এসব তথ্য জানতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি টেকনাফ পৌর এলাকা শীলবনিয়াপাড়ায় খালেদা বেগমের ভাড়া বাসায় অবস্থান করে নিখোঁজ ছেলের সন্ধান করছেন। তাদের সাথে নিখোঁজ ছেলের স্ত্রী আয়েশা বেগমও (২০) রয়েছে। সাথে ৩ বছর বয়সী এক শিশুপুত্র ওসামা। বর্তমানে আয়েশা বেগম সন্তান সম্ভাবা।c
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: মায়ের খোঁজে এসে ছেলে নিখোঁজ
Rating: 5
Reviewed By: Unknown