• Latest News

    জঙ্গিদের ‘ব্রিডিং গ্রাউন্ড’ কওমি মাদ্রাসা: মনিরুল

    বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদের প্রাথমিক ধারণা পায়। এ কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা  কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

    রবিবার রাজধানীতে ১৪ দেশের পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্মেলনের প্রথম দিন 'বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান' শীর্ষক প্রবন্ধে মনিরুল এই মন্তব্য করেন।

    দেশে জঙ্গিদের 'ব্রিডিং গ্রাউন্ড'হিসেবে কওমি মাদরাসার কথা উল্লেখ করে মনিরুল বলেন, 'মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে জঙ্গিবাদের ধারণা দেয়া হয়।'

    বাংলাদেশে ১৯৯০ দশক থেকেও জঙ্গি সংগঠনগুলোর তৎপরতা শুরু। গত বছর পর্যন্ত জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে আটকদের বেশিরভাগই কওমি মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী। বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলে এ নিয়ে মাদ্রাসাগুলোতে নজরদারির দাবি উঠে। তবে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বরাবর বলা হয়েছে, তারা ইসলামের দীক্ষা দেন, জঙ্গিবাদের নয়।

    তবে সম্প্রতি ইংরেজি পড়ুয়া এবং উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যেও জঙ্গি তৎপরতায় জড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত তিনজন ছিলেন ইংরেজি মাধ্যমপড়ুয়া। এদের একজন বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে এসেছেন। এক সপ্তাহ পর কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে হামলাকারী দুইজনের একজনও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। এরপর নর্থ সাউথের আরও অনেকের জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এ ছাড়ও বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে যাদের একটি বড় অংশই উচ্চবিত্ত শ্রেণির।

    মনিরুল বলেন, অতিদরিদ্র ও অভিজাত-দুই শ্রেণিরই যারা জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়েছে তারা মূলত সমাজের মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তাদের বেশির ভাগই অতিদরিদ্র ও অভিজাত পরিবারের সন্তান। তারা সমাজের মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন বলেই জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।'

    বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের বিভিন্ন দিক এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশ বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন মনিরুল। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ সরকার সবসময় জঙ্গিবাদ নির্মূলের ক্ষেত্রে 'জিরো টরালেন্স' নীতি গ্রহণ করে আসছে।" তিনি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানকে দুটি ভাগে ভাগ করেন। প্রথমত: বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে উগ্রপন্থী অঅর্থাৎ বামপন্থী এবং দ্বিতীয়ত: সমসাময়িককালে বপিথগামী ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের দ্বারা সৃষ্ট জঙ্গিবাদ।

    ২০১৩ সালে ব্লগার হত্যাসহ ২০১৬ সালে, 'হলি আর্টিজান' হামলাকে ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের দ্বারা সৃষ্ট জঙ্গিবাদের উত্থান উল্লেখ করে মনিরুল বলেন, জঙ্গিবাদ দদমনে বাংলাদেশ পুলিশ ও নবগঠিত 'কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম' ইউনিট কার্যকর ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনামূলক কর্মসূচি নেয়াসহ জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    বিচ্ছিন্নতার কারণে জঙ্গিবাদে অভিজাতরা

    মনিরুল বলেন, অভিজাত শ্রেণির সন্তানদের অর্থের প্রাচুর্যের কারণে তারা বিদেশি ও পশ্চিমা বিশ্বের সমাজকে অনুকরণ করছে। তারা দেশি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে। এ সুযোগে জঙ্গিবার তাদের প্রভাবিত করে বিপথে ফেলে। আর অতিদরিদ্ররা সুযোগ নিয়েও নিজেদের পথে নিয়ে যায় জঙ্গিরা।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: জঙ্গিদের ‘ব্রিডিং গ্রাউন্ড’ কওমি মাদ্রাসা: মনিরুল Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান