বিশেষ প্রতিবেদক : কক্সবাজার সদরের উপকূলীয় ইউনিয়ন চৌফলদন্ডীতে হত্যা, ডাকাতি, মানব পাচার, চোরা চালান, নাশকতা, জলদস্যুতা, মারামারিসহ ডজন মামলার পলাতক আসামী শীর্ষ ত্রাস একরাম মেম্বার প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। অপরাধ জগতের এ নায়ক রহস্যজনক কারণে বরাবরের মতই প্রশাসনের নজরে পড়ছে না। প্রতিদিন শীর্ষ ত্রাস একরামের নেতৃত্বে গঠিত মেম্বার বাহিনীর সাঙ্গপাঙ্গরা অস্ত্রের মহড়া দিয়ে বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপকর্ম।
যার ফলে চৌফলদন্ডী এলাকার আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ইয়াবা পাচার, গভীর সমুদ্রে জলদস্যুতা, ভূমি ও জবরদখল, অস্ত্র পাচার, ভূমি ও চর দখল, এলাকায় প্রভাব বিস্তার, রাহাজানির মত জঘণ্যতম অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে মারামারি মামলায় নাম লিখে অপরাধের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হন। চৌফলদন্ডীর বহুল আলোচিত বজলুল করিম ভচককে হত্যা করে। এর পর থেকে জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে। জেলার বিভিন্ন অপরাধীদের সাথে রয়েছে গভীর সখ্যতা। কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে ডজন খানেক মামলা।
যার মধ্যে বজলুল করিম ভচক, ফরিদুল আলম সমুদ্র মাঝি মাল্লা হত্যা, সার ও কাঠ পাচার, মারামারির ৩টি, চাঁদাবাজির ২টি, মানব পাচারের ৩টি, নাশকতার ১টিসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে এসব মামলা থেকে রেহায় পেতে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে রাতারাতি যুবদল নেতা বনে যায়। ভাগিয়ে নেয় ইউনিয়ন সভাপতি পদ।
মামলার তথ্য গোপন রেখে স্থানীয় নির্বাচনে সদস্য পদে অংশ নেয়। ক্ষমতার দাপট ও পেশী শক্তি প্রয়োগ করে মেম্বার নির্বাচিত হয়। তারপরও থেমে থাকেনি তার অপরাধ কর্মকান্ড।
চৌফলদন্ডীর লাল গুদাম নামক স্থানে ছৈয়দ হোছন মাঝি হত্যা, বেড়ীবাঁধ এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার, কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং আলী আকবর ডেইল এলাকার লবণ ব্যবসায়ী মৌলভী মোহাম্মদ হোছনকে অপহরণ পূর্বক টাকা আদায়ের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা থাকলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় পার পেয়ে যায়।
চৌফলদন্ডীর বেড়ীবাঁধ এলাকাটি এখন সন্ত্রাসী ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। গত বছর কিউবা রাখাইন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লক্ষাধিক টাকার ইয়াবা ছিনতাই করে প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে পার পেয়ে যায়।
সম্প্রতি তার গ্রুপের ২ সদস্য নাছির উদ্দীন ও জসিম উদ্দীন নামের ২ ইয়াবা পাচারকারী চকরিয়া থানা পুলিশের হাতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, এদের মত এলাকার অনেক ছেলেদের ব্যবহার করে বিশাল অর্থ বিত্তের মালিক বনে গেছে উক্ত একেরাম মেম্বার।
তারা আরো জানান, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ন গঞ্জ, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবা ও অস্ত্র পাচার করে আসছিল। গত ২৪ মার্চ জুমাবার সকালে ইয়াবা পাচারের সময় পুলিশের হাতে আটক হন তারা।
জানা গেছে, বিগত ১৫ দিন পূর্বেও চৌফলদন্ডী ঘাটে একেরাম মেম্বারের নেতৃত্বে ইয়াবা খালাস হয়। পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে পার পেয়ে যায় সে। এ নিয়ে প্রশাসনের কোন নজরদারী না থাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নির্ভয়ে চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম।
এক সময়ের বহুল আলোচিত শীর্ষ ত্রাস একেরাম মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা গ্রেফতারী জারী হলে কিছু দিনের জন্য গা ঢাকা দেয়। এসময় আবারো সক্রিয় হয়ে উঠে একেরাম মেম্বারের রাম রাজত্ব। তার অপকর্মে অন্ত না থাকলেও এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না এমনটাই অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।
তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় এলাকা ছাড়তে হয়েছে অনেককে। হত্যাসহ ১৪টি মামলার আসামী হয়েও এখনও প্রকাশ্য এলাকাজুড়ে তান্ডব চালিয়ে যা”েচ্ছ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের নজরে আসছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা জানান তার নিজস্ব বোট দিয়ে সাগর পথে বিশাল বিশাল ইয়াবা চালান আসলেও কোন নজরদারী না থাকায় একেরাম মেম্বার তার বাহিনী দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছে। এতে ব্যবহার করছে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের।
আটককৃত জসিম উদ্দীন ও নাছির উদ্দীনকে রিমান্ডে আনলে ঐদিনের ইয়াবাগুলোর প্রকৃত মালিক বেরিয়ে আসবে বলেও জানান এলাকাবাসী। সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় আটক হওয়া জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি নেজাম উদ্দীনের সাথে রয়েছে তার গভীর সখ্যতা।
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত মামলার মধ্যে রয়েছে ৪/৯৪, ২/৯৭ বর্তমানে এসটি ৪১/০১, ১৬/৯৯ বর্তমানে এসটি ১৭৯/৫, ২৫/০৭ কুতুবদিয়া থানার হত্যা মামলা নং ৪/১০, ১০/১১, ৬১/১১, ৬২/১১, ১৭/১৪, ৮২/১৫, ৯৩/১৫, ৭/১৫, ৬২/১৫, ১৯/১৬, ৫/১৬। তবে টাকার বিনিময়ে কয়েকটি মামলার চার্জশীট থেকে নাম কেটে নেয় বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে উক্ত একেরাম মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানান।
ইয়াবা ও অস্ত্র পাচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজস্ব বোট মেরামত কাজে ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক ও নজরদারী বাড়াতে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ খায়রুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে অবগত আছেন এবং মামলার ওয়ারেন্ট কপি হাতে আসলে অবশ্যই তাকে গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনা হবে। (সুত্র- কক্সবাংলা)//ফাইল ছবি।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: কক্সবাজার চৌফলদন্ডীর শীর্ষ ত্রাস একরাম প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে
Rating: 5
Reviewed By: Unknown