এ.এম হোবাইব সজীব, চকরিয়া :
চকরিয়া পৌরসভার নিজপানখালী এলাকায় বাড়িভিটার জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই ছেলে-মেয়েকে আহত করার অভিযোগ তুলে ইভটিজিং মামলার সুত্রপাত ঘটনো হয়েছে। এমনকি প্রতিপক্ষ ঘায়েল করতে ক্ষোভ মিটানোর জন্য ফাসিয়াখালী রসিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে মানববন্ধন করা হয়েছে। এ ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষের ৩টি পরিবারের নারী-শিশু ও বৃদ্ধসহ আসামী করা হয়েছে ৮ জনকে। কতিপয় ইভটিজিং মামলায় পুলিশ এক গৃহবধু ও ১৩বছরের বালককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। গতকাল বিকালে চকরিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন আসামি পক্ষের আলী আহমদ সওদাগরের স্ত্রী হুমায়রা বেগমসহ ভুক্তভোগী পরিবার সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে আসামি পক্ষের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, চকরিয়া পৌরসভার নিজপানখালী গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী আমেনা বেগমের পরিবারের সাথে দীর্ঘ ১০বছর ধরে বাড়িভিটা ও জমি সংক্রান্ত ঝামেলা চলে আসছে পাশের তিনটি পরিবারের মধ্যে। ইতিপূর্বে আমেনা বেগম প্রতিপক্ষ প্রতিবেশি লোকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলার বাদী।
এসব মামলায় আমেনা বেগমকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে না পারায় বুদ্ধি আঁটে নতুন করে একটি ইভটিজিং মামলায় জড়িয়ে দেয়ার জন্য। এরই জেরে আগের বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশি মোহাম্মদ হানিফ( ৫০) এর সাথে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি করে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। ওই ঘটনার জেরে নিজের স্কুল পড়ুয়া দুই ছেলে-মেয়েকে আহত করার ঘটনা দেখিয়ে রক্তাক্ত করে প্রথমে চকরিয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আসামি পক্ষের হুমায়রা বেগমসহ অনেকের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে আমেনা বেগম বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেন। পরিকল্পিতভাবে মামলায় আসামী করেন আগে থেকে বিরোধ থাকা তিনটি পরিবারের ২ গৃহকর্তা তিন গ্রহকর্ত্রী ও ১৩ বছরের বালক এবং ও কলেজ পড়–য়া দুই সহোদরকে। এরপর ইভটিজিং নামের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে করেন মানববন্ধন।
আসামি পক্ষের অনেকের অভিযোগ ঘটনার আলোকে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয় প্রেমের রাজী না হওয়ায় চকরিয়ায় স্কুলে যাওয়ার পথে একদল বখাটে ২ শিক্ষার্থী ভাইবোন পাপিয়া সুলতানা প্রিয়া ও রাকিবুল ইসলাম হৃদয়কে কুপিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনার মামলায় ১৩বছরের কিশোর,বাবা মা ভাই বোন সহ আসামী আসামী হয়েছেন ৮জন। ১৩ বছরের কিশোর ও কলেজ ছাত্রের মাকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
আসামি পক্ষের দাবী:, দায়ের করা ইভটিজিং মামলার ধরন এবং আলামত দেখে সহজে বুঝা যায় এটি নিছক একটি পারিবারিক বিরোধের ঘটনা। কথিত ইভটিজিংয়ের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলে মামলাটি পারিবারিক কলহের জেরে সাজানো হয়েছে। ফলে মামলাটির পেছনে গিয়ে অধিকতর তদন্ত করলে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
প্রসঙ্গত: গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল ৯টার দিকে ফাসিয়াখালী রশিদ আহমদ চৌধুরী উ”চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনার স্থান দেখানো হলে ও এ ঘটনা ঘটে মৌলভীর কুম বাজারের নিকট¯’ বাদীনির ঘরে। ঘটনার দিন দুপুরেই চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন আহত দুই শিক্ষার্থীদের মাতা পৌরসভার নিজপানখালী গ্রামের মো: শাহ আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বির“দ্ধে সরাসরি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। এতে আসামী করা হয়েছে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের নিজপানখালী গ্রামের মো: হানিফের পুত্র মো: ইব্রাহিম (২২)ও মো: ইসলাম (২০) মোহাম্মদ আলীর পুত্র বোরহান (১৭), মো: এরফান(১৬) ও মো: আরমান উদ্দিন(১৩), মৃত আবদু ছালামের পুত্র মোহাম্মদ আলী (৪৫)ও আবুল হোসেন(৫০) মো: হানিফের স্ত্রী জন্নাত আরা বেগম(৪০)
মামলার শিক্ষার্থীদের মাতা বাদী আমেনা বেগম অভিযোগে জানায়, স্কুল ছাত্রী পাপিয়া সুলতানা প্রিয়াকে স্কুলে যাওয়া আসার সময় উত্যাক্ত করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। সম্প্রতি বাধা প্রদান করলে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে। এ ঘটনায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারী আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত তা আমলে নিয়ে থানার ওসিকে মামলা (এফআইআর) নেয়ার নির্দেশ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি এবং সর্বশেষ গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল ৯টায় স্কুলের যাওয়ার সময় হত্যার উদ্দেশ্যে ফের হামলা চালায়।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: চকরিয়ায় ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ইভটিজিং মামলা
Rating: 5
Reviewed By: Unknown