• Latest News

    ওসি ইফতেখার হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ


    কক্সবার্তা ডেস্ক :
    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসানের বিরুদ্ধে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ওসির হয়রানির বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ালেও রেহাই পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে ব্যবসায়ীরা নানা জায়গায় ধন্না দিচ্ছেন।
    সাধারণত একটি থানায় একজন ওসি তিন বছরের বেশি থাকার কথা নয়। কিন্তু অনেক অভিযোগের পরও সোয়া তিন বছর ধরে তার জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। রক্ষা পাচ্ছেন না সাধারণ জনগণও।
    চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে জেলা পুলিশের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুলিশ সপ্তাহসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। এক লাখ টাকা প্রয়োজন হলে চাঁদা আদায় করেন কোটি টাকার মতো। আর চাঁদা না দিলেই নেমে আসে হয়রানির খড়গ। জঙ্গি তৎপরতা, নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে ওসির বিরুদ্ধে।
    ওসি ইফতেখার হাসানের হয়রানি থেকে বাঁচতে ২০১৫ সালে এক ভুক্তভোগী হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করতে বাধ্য হন। ওই রিটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও মোস্তফা জামান হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন।
    একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ওসি ইফতেখার হাসান ঘুষ লেনদেনের জন্য একটি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন। সেই মোবাইল নম্বরের কললিস্ট ধরে অনুসন্ধান করলেই সব তথ্য বের হয়ে আসবে। ওসির দুর্নীতির চিত্র ‍অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনেরও হস্তক্ষেপ কামনা করেন ওই ভুক্তভোগী।
    ২০১৫ সালে একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিকের কাছে থেকে জোর করে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। সেই টাকা সীতাকুণ্ড থানা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সাগরিকা এলাকায় লেনদেন হয়। টাকা নিতে ওসির ব্যক্তিগত গাড়িতে (প্রিমিও ব্রান্ড) চড়েই আসেন তার বিশ্বস্ত দুই সহযোগী।
    ওই লেনদেনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শহিদুল হক নামে এক ব্যক্তি। তিনি টাকা লেনদেনের উদ্দেশ্য জানাতে না পারলেও লেনদেনের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
    কয়েক মাস আগে রায়হান উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। রাতে থানায় আটকে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরদিন দশ লাখ টাকা আদায় করে ছেড়ে দেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে রায়হান উদ্দিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ রকম বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
    ইফতেখার হাসানের আয় ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন খোদ তার কাছেরই লোকজন। চট্টগ্রাম নগরীর মৌসুমী আবাসিক এলাকায় ওসি তৈরি করেছেন চারতলা আলিশান বাড়ি। গাড়ি কিনেছেন ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে।
    ওসি ইফতেখার হাসানের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। বাংলানিউজকে তিনি জানান, আমরা কাজ করি বলে অনেকের সমস্যা হচ্ছে। তারাই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়েছেন। আপনারা সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখেন কোনো সত্যতা পাবেন না। (বাংলা নিউজ)

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ওসি ইফতেখার হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান