কক্সবার্তা ডেস্ক :
সংবাদ সম্মেলনে কোচিং ব্যবসায়ী রাশেদ মিয়া
চট্টগ্রাম: নগরীর চকবাজার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজ আহমেদ সিএমপিতে ভাল পোস্টিংয়ের জন্য চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছেন তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাশেদ মিয়া নামে এক কোচিং ব্যবসায়ী।
রাশেদের অভিযোগ, চকবাজার থানা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক বদলি) হওয়ার পর ওসি আজিজ আবারও সিএমপিতে ভাল পোস্ট পেতে তার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকার জন্য আজিজ ও তার বন্ধু মনছুর আজাদ মিলে তাকে জিম্মি করে ১১টি খালি চেকে স্বাক্ষর আদায় করেছে এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছে।
তবে রাশেদের এই অভিযোগ নাকচ করে চকবাজার থানার সাবেক ওসি আজিজ আহমেদ বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী মনছুর আজাদের কাছ থেকে রাশেদ ৮৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল। আজাদ সেই টাকা উদ্ধার করতে না পেরে চকবাজার থানায় ওসি হিসেবে আজিজের দ্বারস্থ হন। আজিজ টাকাগুলো ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেয়ায় রাশেদ বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ বলেন, গত বছরের আগস্ট মাসে ওসি আজিজ আহমেদ থানায় আসামীর সাথে বৈঠক করার অপরাধে স্ট্যান্ড রিলিজ হন। পরবর্তীতে সিটি এসবিতে (বিশেষ শাখা) যোগ দেন। এরপরই আজিজ আহমেদ আমার কাছ থেকে ৭০লক্ষ টাকা দাবি করে। তার নাকি চাকুরির সুবিধাজনক পদায়নের জন্য এই টাকা প্রয়োজন।
২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় পরিচয় থেকে আজিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বলে জানিয়েছেন নগরীর জিইসি মোড়ের এমসিএইচ ও ইউনি এইড নামে দুটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক রাশেদ।
সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ অভিযোগ করেন, ৭০ লাখ টাকার জন্য আজিজ ও মনছুর আজাদ তার কোচিং সেন্টারে গিয়ে তাকে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেন। কোচিং সেন্টারে তালা লাগিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। আজাদ তার কাছ থেকে ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাবে এবং কোচিং সেন্টার আজাদের নামে লিখে দিয়েছে মর্মে তিন’শ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়।
এরপরও টাকা না পেয়ে আজিজ হাটহাজারী থানায় রাশেদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নাকি ওসি আজিজের ছবি ও ঠিকানা ব্যবহার করে এবং নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে শো-রুম থেকে মোটর সাইকেল এনেছি।
রাশেদের দাবি, চকবাজারের ওসি থাকার সময় আজিজ একটি মোটর সাইকেল উপহার পেয়েছিলেন। সেটি শোরুম থেকে আনার জন্য আজিজ রাশেদকে পাঠিয়েছিলেন। ৭০ লাখ টাকার জন্য সেই মোটর সাইকেলের রেকর্ডপত্র জালিয়াতি করে আজিজ তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজ আহমেদ সেই মোটর সাইকেলের মালিকানা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বাংলানিউজকে দেন। হাটহাজারী থানায় রাশেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিদার প্রেক্ষিতে নগরীর আগ্রাবাদের শেখ মুজিব রোডের টিভিএস গ্যালারি কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিবেদনটি দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, জনৈক মো.রাশেদ ২০১৬ সালের ২১ জুন নিজেকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে তার বড় ভাই আজিজ আহমেদের জন্য একটি টিভিএস মোটর সাইকেল কিনেন।
আজিজ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, রেজিস্ট্রেশনের কাগজে আমার ইউনিফর্ম পড়া ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আমি কি ইউনিফর্ম পড়া ছবি দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করব ? গাড়ি যদি আমি উপহার পেয়ে থাকি সেটি এখন কোথায় ? রাশেদ সেটি সরিয়ে ফেলল কেন ?
নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মোটর সাইকেল কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন।
এছাড়া রাশেদ বিভিন্ন সময় আজিজকে তিনি ৮ লাখ টাকা ধার দিয়ে পরে আর ফেরত পাননি বলেও দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কয়েকবার কান্না করেন রাশেদ মিয়া। আজিজের ভয়ে তিনি একাই সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছেন বলে জানান।
ওসি আজিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দাবি করে রাশেদ বলেন, ২০১৩ সালে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে আমি বাসা থেকে বের হয়ে যাই। আমি কোচিং সেন্টারে ছিলাম।
অনেক সময় আমার কেটেছে চকবাজার থানায়।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন বলেও জানিয়েছেন রাশেদ।
থানায় মামলা কিংবা জিডি করেননি কেন, এই প্রশ্নের জবাবে রাশেদ বলেন, সিএমপি কমিশনারকে জানানোর পরও আজিজ আহমেদ আমার বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় মিথ্যা মামলা করেছে। আমি মামলা করলে তো আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলত।
জানতে চাইলে বর্তমানে সিএমপির বিশেষ শাখায় কর্মরত পরিদর্শক আজিজ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, রাশেদের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। ঘনিষ্ঠতাও ছিল। কিন্তু ওসি হিসেবে কেউ আমার কাছে আইনি প্রতিকারের জন্য এলে আমি তো দায়িত্ব পালন না করে পারব না। আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে আমি যখন টাকার জন্য চাপ দিয়েছি তখনই রাশেদ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। আসলে টাকাগুলো ফেরত না দিয়ে আত্মসাতই হচ্ছে তার উদ্দেশ্য।Nb.
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: ‘ঘুষ দিতে’ চাঁদাবাজিতে পুলিশ পরিদর্শক
Rating: 5
Reviewed By: Unknown