• Latest News

    এমপি লিটন হত্যা: তৃতীয় পিস্তলটি খুঁজছে পুলিশ


    দেশ বার্তা::
    কক্সবার্তা ডট কম।।
    গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় আরো আলামত খুঁজছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত আরো একটি পিস্তল।

    পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এমপি লিটন হত্যার মোটিভ উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জোরালো অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে অনেকটা সফল হয়েছে তারা। তবে এ হত্যাকাণ্ডের আরো মোটিভ ও আলামত উদ্ধার করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছে।

    এমপি লিটন হত্যায় জড়িতদের মধ্যে মূল হোতাসহ কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে পরিকল্পনাকারী  ও অর্থ জোগানদাতা হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নবম সংসদে গাইবান্ধা-১ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি কর্নেল (অব.) কাদের খানকে। লিটন হত্যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ থাকার সন্দেহে পুলিশ এখন খুঁজছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক চন্দন সরকারকে। কাদের খানের জব্দ করা মোবাইল ফোন ট্যাকিং করে তার সঙ্গে চন্দন সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সম্পর্কে জানতে পারে পুলিশ। একই সঙ্গে খোঁজা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আরও কিছু আলামত।
    এখন পর্যন্ত পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন, মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    লিটন হত্যাকাণ্ডের এক মাস আগে গত বছরের ১ ডিসেম্বর রাতে ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় ফাহিম মিয়া নামের এক যুবকের মোবাইল ফোন ছিনতাই ঘটনার সূত্র ধরে মূলত কাদের খানের প্রতি পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়।
    জানা যায়, ছিনতাইকারীরা তাড়াহুড়ো করে সটকে পড়ার পর সেখানে পিস্তলের একটি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়, যেটি পরে স্থানীয় লোকজন থানায় জমা দেয়। লিটন হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলের গুলির খোসার সঙ্গে এই ম্যাগজিনের মিল খুঁজে পায় তদন্তকারী দল। অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ বৈধ অস্ত্রের তালিকা খুঁজতে গিয়ে সাবেক এমপি কর্নেল (অব) আব্দুল কাদের খানের বৈধ অস্ত্রের সঙ্গেও ওই গুলির খোসা ও ম্যাগজিনের মিল খুঁজে পায়। পরে পুলিশ কাদের খানের অস্ত্রের তালাশ করতে থাকে।

    গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পুলিশ কাদের খানের ভাগিনা শামীম মন্ডল এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ভাতিজা শাহীন, গাড়িচালক হান্নান ও মেহেদীকে আটক করে।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান জানান, আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিতে এমপি লিটন হত্যায় তিনটি অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পায় পুলিশ। এর মধ্যে কাদের খান ২০১৬ সালের ১০ মার্চ কেনা পিস্তলের ৫০ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগজিনের মধ্যে ১০ রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল জমা দেন।

    পুলিশ ২১ ফেব্রুয়ারি এমপি লিটন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী  ও অর্থ জোগানদাতা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর কাদের খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতের মাধ্যমে ১০ দিনের রিমান্ড নেয়া হয় তাকে। রিমান্ডে তার স্বীকারোক্তিতে ২২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে পুলিশ কাদের খানের ছাপড়হাটীর গ্রামের বাড়ির উঠানের মাটির নিচ থেকে অপর একটি পিস্তল, ম্যাগজিন ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।



    তবে লিটন হত্যাকাণ্ডের সময় তিনটি পিস্তল ব্যবহৃত হয়েছে বলে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে পুলিশ।  দুটি পিস্তল উদ্ধার হলেও তৃতীয়টির সন্ধানে এখন তৎপর তদন্তকারীরা।

    এ নিয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান বলেন, 'অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উদ্ধার হলেই জানতে পারবেন।' এ ছাড়া এমপি লিটন হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত, গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

    গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন  এমপি লিটন। পরে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান তিনি।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: এমপি লিটন হত্যা: তৃতীয় পিস্তলটি খুঁজছে পুলিশ Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান