এ.এম হোবাইব সজীব, চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বানিয়ারছড়া এলাকায় বনবিভাগের উ”েছদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক ভুমিহীন পরিবার বর্তমানে প্রচন্ড শীতে খোলা আকাশের নীচে মানবেতর রাত কাটাচ্ছে। মাথা গোঁজার ঠাই হারিয়ে বেশিরভাগ পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অভিযানের সময় এলাকার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিখন স্কুলটি গুড়িয়ে দেয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রৈনীতে পড়ুয়া প্রায় ৬২জন ক্ষুদে শিক্ষার্থীর লেখাপড়া। বর্তমানে ওই এলাকায় বসবাসরত পরিবার গুলোতে উচ্ছেদ আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের ডিএফও, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ন্যায় বিচার কামনা করেছেন।
জানা গেছে, শনিবার সকালে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের কর্মকর্তারা অবৈধ বসতি উচ্ছেদের অভিযান পরিচালনা করেন। ওইসময় চুনতী রেঞ্জের অধীন চকরিয়া উপজেলার বরইতলী বনবিটের মধ্যম বানিয়ারছড়া এলাকার পাহাড় থেকে দরিদ্র ও ভুমিহীন পরিবারের অন্তত ৩৫টি বসতবাড়ি ভেঙ্গে উচ্ছেদের করা হয়। পাশাপাশি একটি স্কুল ও একটি মসজিদ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সদস্যদের অভিযোগ, তাঁরা ভুমিহীন, কারো বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়িভিটা না থাকায় কয়েকযুগ আগে তাঁরা পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। কিš‘ বনবিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে বসতি গুলো উ”েছদ করে দেয়ার পর এখন তাঁরা পরিবার সদস্যদের নিয়ে প্রচন্ড শীতে খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, অভিযানের সময় বনকর্মীরা দেখে দেখে দরিদ্র ও ভুমিহীন পরিবার গুলোর বাড়ি ভেঙ্গেছে। কিন্ত প্রভাবশালী এবং বনকর্মীদের সাথে সর্ম্পক আছে এমন ব্যক্তিদের বাড়িতে হাতও দেয়নি। ক্ষতিগ্র¯’ এসব পরিবার সদস্যরা দাবি করেছেন, উ”েছদ করতে হলে বনবিভাগের জায়গায় যেসব বসতি আছে সবগুলো উ”েছদ করতে হবে। শুধুমাত্র তাদেরকে (ক্ষতিগ্র¯’ পরিবার গুলো) উ”েছদ করলে হবেনা। এমনকি বনবিভাগের জায়গা দখল করে শাসকদলের দাপটে যেসব প্রভাবশালী লোকজনের ছত্রছায়ার বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে এসব বসতিও উ”েছদ করতে হবে।
ক্ষতিগ্র¯’রা অভিযোগ করেছেন, উ”েছদ অভিযানের সময় বরইতলী ইউনিয়নের এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা গাড়িতে করে শ্রমিক পাঠিয়ে বনবিভাগকে সাহায্য করেছে। যাতে তাঁর দখলে থাকা অবৈধ ¯’াপনা গুলো উ”েছদে বনবিভাগের কর্মকর্তারা নীরব থাকে।
অভিযোগে ক্ষতিগ্র¯’ পরিবার সদস্যরা দাবি করেন, বনবিভাগের উ”েছদ অভিযানে তাদের ঘরবাড়ি শুধু ভেঙ্গে দেয়া হয়নি। ওইসময় শ্রমিক হিসেবে বহিরাগত যেসব লোক অভিযানে অংশ নিয়েছে তাঁরা বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালিয়েছে। শিশুদের মারধর করেছে। মহিলাদেরকে শাররীকিভাবে নির্যাতন করেছে।
অভিযানে ক্ষতিগ্র¯’ হয়েছেন অন্তত ২৭টি পরিবার। তাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মধ্যম বানিয়ারছড়া এলাকার কুলছুমা বেগম, নুরুল ইসলাম, নুর আয়েশা, আবুল হোসেন, ইলিয়াছ, আবদুল মোনাফ, চৌধুরী আমিন, রাসেল, আজিজুর রহমান, ছাবের, ওসমান গনী, মৌলভী আরিফ, হেলাল ড্রাইভার, রেহেনা খাতুন, ইসমাইল, আবদুল খালেক, কবির আহমদ, জিয়াবুল হক, হেলাল উদ্দিন, আবদু, মোহছেনা বেগম, মহবুল, খালেক, শাহিনা বেগম, দিলোয়ারা বেগম ও রিনা আক্তার।
অভিযোগে বানিয়ারছড়া গ্রামের মৃত ফরিদুল আলমের স্ত্রী কুলছুমা বেগম জানান, তাঁর পরিবারে কোন ভুমি নেই। গত ৪৫বছর ধরে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে পরিবার নিয়ে তিনি কোনমতে একটি ঘর করে বসবাস করে আসছেন। অভিযানে তাঁর প্রায় ৩০লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। উ”েছদ অভিযান চলাকালে তাঁর বাড়ি থেকে দেড় ভরি স্বর্ণ, নগদ টাকা ও একটি ল্যাপটপ লুট করা হয়েছে।
একই এলাকার বাসিন্দা মৃত কালু মিয়ার ছেলে কর্মজীবি নুরুল ইসলাম জানান, তাঁর পরিবার প্রায় ৪০বছর ধরে বানিয়ারছড়া পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযানে তার বাড়িটিও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এতে পরিবারের নগদ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ ও আসবাবপত্র লুট এবং বাড়িটি তছনছ করে দেয়ার ফলে তাঁর পরিবারের প্রায় ১৫লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।
¯’ানীয় নুরুল আলমের স্ত্রী নুর আয়েশা বেগম জানান, তাঁর পরিবারে কোন ভুমি নেই। তাই বাধ্য হয়ে গত ২০বছর আগে বানিয়ারছড়ার পাহাড়ে আশ্রয় নেন। এরপর সেখানে বসতি তৈরী করে শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন। কিš‘ শনিবারের অভিযানে তার পরিবারের সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। তিনি জানান, অভিযানে তাঁর বাড়িটি ভেঙ্গে দেয়ার কারনে বেশির ভাগ মালামাল ও আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় ৫লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: বনবিভাগের অভিযানে খোলা আকাশের নীচে শীতে রাত কাটাচ্ছেন শতাধিক ভুমিহীন পরিবার
Rating: 5
Reviewed By: Unknown