মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়া শহর থেকে ক্রয় করা বিরিয়ানি খাইয়ে দুই শিশু কন্যাকে মুত্যুর ঘটনায় মামলার আসামি শিশুদের পিতা মিজানুল হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে কক্সবাজারের কলাতলী মোড় এলাকা থেকে পিবিআই পুলিশের একটিদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত মিজানুল হক পেকুয়া উপজেলার পূর্বমেহেরনামা বাঘগুজারা গ্রামের মৃত কালু সিকদারের পুত্র।
দুই মেয়েকে বিরিয়ানির সাথে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি নালিশী অভিযোগ দায়ের করেন শিশুদের মা ইয়াছমিন আক্তার বুলু। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে কক্সবাজারস্থ পিআইবি পুলিশ নতুন করে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেন।
কক্সবাজার পিআইবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, তদন্তভার ন্যস্ত হওয়ার পর থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পিআইবি পুলিশের এসআই আবু ছালেহ মামলার আসামি শিশুদের বাবা মিজানুল হককে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড়স্থ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানাগেছে, চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার বুলুর সাথে ২০০৪সালে বিয়ে হয় পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্বমেহেরনামা বাঘগুজারা গ্রামের মৃত কালু সিকদারের পুত্র মিজানুল হকের মধ্যে। সংসারে মিনজিলা আক্তার মাহিয়া (৯) ও সানজিদা ইয়াসমিন মিলি (৬) নামের দুটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়।
মামলার বাদি ইয়াছমিন আক্তার বুলবুল অভিযোগ করেন, সাংসারিক জীবন চলাকালীন সময়ে এক মহিলার সাথে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয় পড়েন তার স্বামী মিজানুর রহমান। নিষেধ ও বাধা দিলে তাকে বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসছিলেন। পরে ২০১৫ সালের ১৩অক্টোবর বিকেলে মিজানুল হক চকরিয়া শহরের কেন্ডি ফাস্টফুড নামের দোকান থেকে তিন প্যাকেট বিরানী কিনে এবং তাতে বিষ মিশিয়ে রাত ৮টার দিকে বাড়িতে নেন। রাতে বিরিয়ানির প্যাকেট খুলে তিনি (ইয়াছমিন আক্তার) ও দুই শিশু কন্যাকে খাইয়ে দেন। এরপর মা-মেয়ে তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্ত্রী ও কন্যাদের অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যায় স্বামী মিজানুর রহমান। এদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়া জমজম হাসপাতালে শিশু মিলি প্রথমে মারা যান। মা ও অপর মেয়ে মাহিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হলে সেখানে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মারা যায় মাহিয়াও। এদিকে শিশু কন্যাদ্বয়ে মা ইয়াসমিন আক্তার জানায় একটি সহজ ও সত্য ঘটনাকে ভিন্নতা রূপ দিতে মোটা অংকের মিশনে ছিলেন ওই খুনি। অবশেষে আইনের জালে আটকা পড়েন পরকীয়া প্রেমিক ও দুই শিশু হত্যাকারী ওই ঘাতক পিতা। সম্প্রতি তাকে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ও ঘটনাকে ভিন্নভাবে প্রবাহিত করতে মিজানের স্বজনরা বিভিন্ন মহলে ধরনা দিচ্ছেন বলেও জানান নিহতদের মাতা ইয়াসমিন। মহামান্য আদালত ও প্রশাসনের নিকট পরকীয়া প্রেমে বশীভূত হয়ে দুই শিশু হত্যাকারী পিতা মিজানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: চকরিয়ায় দুই শিশু খুনের আসামি পিতা গ্রেপ্তার, মোটা অংকের মিশনে স্বজনরা
Rating: 5
Reviewed By: Unknown