• Latest News

    ‘৮ মাস আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ওরা আমার ছেলেকে নিয়ে যায়’

    চট্টগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া পাঁচ জঙ্গির মধ্যে একজন শেখ ইবতিসাম আহমেদ সামি (২৩)। তার বাবা ইফতেখার আহাম্মদ ইনামের দাবি, সামিকে ৮ মাস আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি প্রাইভেট ছাত্রাবাস থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডিও করেছিলেন।
    বাবা ইফতেখারের দাবি, বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের খবর টেলিভিশনে ছবিসহ দেখতে পেয়ে সামিকে শনাক্ত করেন তিনি।
    সামির স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, রংপুর নগরীর ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার ব্যবসায়ী শেখ ইফতেখার আহাম্মেদ এনামের একমাত্র ছেলে ইবতেশাম আহাম্মেদ সামি। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সামি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মোন্নাফের মোড় এলাকায় নিলাভা নামে একটি বেসরকারি ছাত্রাবাসে থাকতো।

    তার বাবা ইফতেখার জানান, তার ছেলে অত্যন্ত মেধাবী। সে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ওই ছাত্রাবাসের গেটের তালা ভেঙে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে একদল লোক তার ছেলেকে ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে যায়। খবরটি জানার পর তিনি নিজেই ওই ছাত্রাবাসে যান। পরের দিন তার ছেলে নিখোঁজ মর্মে স্থানীয় বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি ডায়রি করেন ইফতেখার, যার নম্বর ১৬১৬।

    সামির বাবা আরও জানান, তার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ ৮ মাসে তিনি রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধান করেছেন। এমনকি সামির সন্ধানের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা দেখা করে ছেলেকে উদ্ধার করার জন্য তাদের সহায়তাও কামনা করেছেন।

    তিনি আরও জানান, যেদিন রাতে তার ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ওই দিন বিকালে সামি তার মার সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানিয়েছিল, ১ মে তার পরীক্ষার ফরম পূরণ করে ২ মে রংপুরে আসবে। এটাই ছিল সামির সঙ্গে তাদের শেষ কথা।

    এক প্রশ্নের জবাবে সামির বাবা ইফতেখার জানান, তার ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বোয়ালিয়া থানায় বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়েছিল। সামি কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল কিনা সে সম্পর্কে পুলিশ তদন্ত করে দেখছে বলে তারা জানান। ওই সময় এএসপি সাকলাইন (বর্তমানে ঢাকায় কাউন্টার টেররিজমে কর্মরত) তাকে জানিয়েছিলেন, সামির বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, সামি কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না।

    তবে এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া থানার ওসি শাহাদৎ হোসেন জানান, বিষয়টি তার মনে পড়ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ‘৮ মাস আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ওরা আমার ছেলেকে নিয়ে যায়’ Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান