• Latest News

    "তারপর ওরা দুইজন মিলে আমাকে ধর্ষণ করে"



    তামিরুল ইসলাম মিল্লাত
    অনলাইন অবলম্বনে
    "ওরা আমার বাড়ীর গয়না আর টাকা চুরি করে নেয়। ধর্ষণ করে আমাকে আর আমার ১৫ বছরের মেয়েকে। আমাকে বাড়ির ভেতর নিয়ে যায়। আমার জামা-কাপড় ছিড়ে ফেলে , মাথার স্কার্ফ কেড়ে নেয় ।
    .
    দুইজন আমাকে শক্ত করে ধরে। একজন আমার দুই হাত একসাথে চেপে ধরে। আরেকজন পিছন থেকে আমার চুল ধরে। তারপর ওরা দুইজন মিলে আমাকে ধর্ষণ করে।"
    কথাগুলো সাত সন্তানের জননী ৪০ বছরের নারী সে'কার।
    .
    আরেক নারী নূর ফাতেমা জানান, তার কাছে আশ্রয় নেয়া দু'জন কিশোরী প্রায় এক মাস আগে ধর্ষণের শিকার হয়। নির্যাতনে ইতোমধ্যে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে তারা। গত ১০ দিন আগে আশ্রয়ে আসা হামিদার মেয়ে রোকেয়া। পিতৃহীন রোকেয়ার কাছে নির্যাতনের কথা জানতে চাইলে তিনি শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। একই অবস্থা জেসমিনের। কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই মাসে পাশবিক নির্যাতনের শিকার অর্ধসহস্রাধিক নারীকে এখানে চিকৎসা দেয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে বেশির ভাগই যৌন নির্যাতনের কারণে মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
    .
    জেসমিন আরার মা নাজিবা বেগম (৫০) জানিয়েছেন, তাদের বাড়িতে এসে মহিলাদের উঠানে বসিয়ে রেখে পুরুষের খোঁজে ওরা তল্লাশি চালায়। পুরুষরা সব পালিয়ে যাওয়ায় ঘরে ভাঙচুর চালায়। এরপর তার মেয়ে জেসমিনকে এক সেনা টেনেহিঁচড়ে ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। মেয়েকে বাঁচাতে বাবা ছুটে এলে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আর ফিরে আসেননি। নাজিবা বেগম বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ে অসুস্থ, তাকে ইনজেকশন এবং অন্যান্য চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মংডু থানার ছোটগজিরবিল গ্রামের ৬৫ বছরের বৃদ্ধা সমুদা খাতুন জানান, 'আমার ভাতিজিকে সৈন্যরা গণধর্ষণ করে। অতিরিক্ত রক্তরণে সে মারা যায়। সেনাবাহিনী এসে পড়ায় গোলপাতা বাগানে তাকে একটা কাপড় মুড়ে ফেলে রেখে আমরা প্রাণ রক্ষা করেছি। লাশটা দাফন করার ভাগ্যও আমাদের হয়নি।
    .
    ২০ বছরের মাহমুদা। লুদাইং এলাকা থেকে গত ১৯ নভেম্বর অন্য আরো কয়েকজনের সাথে সেও সীমান্ত অতিক্রম করে এই ক্যাম্পে চলে আসে। এমএসএফ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এই কিশোরী জানায়, বাবা-মায়ের সামনেই আমাকে খালি ঘরে নিয়ে কয়েকজন মিলে নির্যাতন করে, একজনের পর আরেকজন এসে নির্যাতন চালায়, কেউ কেউ দ্বিতীয়বার আসে। তারা চলে যাওয়ার পর আশপাশের লোকজন এসে আমাকে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। মিনারা বেগম নামে আর এক নারী জানান, তল্লাশির নামে তাদের শরীরে হাত দেয় সেনা বাহিনীর সদস্যরা।
    .
    কাউয়ারবিল গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা রুবাইয়া (২৪) জানান, 'বিছানার সাথে ওরা তাদের দুই বোনকে বেঁধে রেখেছিল। এরপর বর্বর বাহিনীর সদস্যরা তাদের ধর্ষণ করেছে। সেনাদের অত্যাচারের বিবরণ দিতে গিয়ে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল ওই তরুণীর চেহারা। তার আরো দুই ভাইবোন এ বর্বরতার সাক্ষী ।

    রুবাইয়ার ছোট বোন সাবিহা (১৭) জানায়, তাদের দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর তাদের ঘরে আগুন দিয়ে চলে যায় সেনারা। এর আগে তাদের বাবাকে হত্যা করা হয়। শুধু রুবাইয়া বা সাবিহাই নয়। এই দুই বোনের মতো প্রতিদিন আরো অনেক কিশোরী-যুবতী ধর্ষিত হচ্ছে। যাওয়ার সময় বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। রুবাইয়া জানান, পালিয়ে না এসে উপায় ছিল না। সেনারা চলে যাওয়ার আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল এরপর আবার তাদের দেখতে পেলে খুন করা হবে।"
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: "তারপর ওরা দুইজন মিলে আমাকে ধর্ষণ করে" Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান