• Latest News

    ঈদগাঁওতে প্রাইভেট স্কুল-মাদ্রাসায় কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা

    মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আজাদ, ঈদগাঁও:
    কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁওর গ্রামেগঞ্জে সরকারী কিংবা রেজিষ্টার্ড বিদ্যালয়-মাদ্রাসা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশতাধিক ছোটবড় স্কুল ও ক্যাডেট মাদ্রাসা। স্বনামে-বেনামে রাতারাতি প্রতিষ্ঠানের ছবি টাঙিয়ে স্থানীয় কতিপয় শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে রাতের আঁধারে অভিভাবকদের বাসায় গিয়ে ভর্তির নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নামে মাত্র শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হলেও বাইরে বড় বড় ছবি বা ব্যানার টাঙিয়ে ইংলিশ মিডিয়ামের কথা বললেও বাস্তবে উল্টো।
    অন্যদিকে এসমস্ত প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষকরাও রয়েছে সরকার বিরোধী আন্দোলনে। সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে আসলেও বাস্তবে পরিণত করায় এরা দ্বিগুণ উৎসাহিত হয়ে এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও নামে মাত্র বিভিন্ন ডিগ্রির পরিচয় দিচ্ছে। অথচ বাস্তবে তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। প্রাইভেট স্কুল কিংবা ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বসে সরকার বিরোধী বৈঠক ছাড়া বাস্তবে আর কিছু করছে না। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেই তারা (শিক্ষকরা) রাতারাতি বনে যায় সরকার দলীয় ছাত্রলীগের একসময়ের কর্মী বা নেতা। অথচ অতীতের যাবতীয় আন্দোলনে তারাই সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তা পুলিশের খাতায় এখনো ভিডিও ফুটেজ দেখলেই তাদেরকে চিহ্নিত করা যাবে। এক শ্রেণীর মুনাফা লোভী ব্যক্তি স্বঘোষিত স্কুল প্রধান, অধ্যক্ষ বা প্রিন্সিপাল সেজে কেজি স্কুলের নামে এসব প্রতিষ্ঠান খুলে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তাছাড়া সরকারের বিশালাকার রিজার্ভ ও খাস জমি দখল করে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
    বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১ যুগ ধরে বৃহত্তর ঈদগাঁওর ইসলামপুরে ৩টি, ইসলামাবাদে ৩টি, পোকখালীতে ২টি, জালালাবাদে ৩টি, চৌফলদন্ডীতে ৪টি, ঈদগাঁওতে ৩টিসহ অর্ধশতাধিক কেজি স্কুল নামের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কেজি স্কুলে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার কথা বলে গড়ে উঠেছে এক শ্রেণীর স্ব স্ব এলাকার শিক্ষিত বেকার ও অর্ধ শিক্ষিত যুবকরা। অল্প বিনিয়োগে অধিক লাভের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। শিক্ষার কথা বললেও মূলত তারা এসবকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারী কোন নিয়মনীতি মেনে চলা হয় না। নেই কোন স্কুল পরিচালনা পরিষদ। যে কোন স্থানে একটি টিনের বেড়া কিংবা দালান তৈরি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চলছে স্কুল নামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কেজি স্কুলে শিক্ষিত বেকার বা অধ্যয়নরত কলেজ-মাদ্রাসা পড়–য়া মেয়েদের নামে মাত্র বেতনে নিয়োগ দিয়ে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। ঈদগাঁওতে হাতে গোনা দুয়েকটি কেজি স্কুল গড়ে উঠলেও বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আনাছে কানাছে ব্যাঙের ছাতার মত গজে উঠেছে এসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। বেশির ভাগ কেজি স্কুলের মালিক নিজেই অধ্যক্ষ বা প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা ইচ্ছানুযায়ী নির্ধারণ করে ভর্তি ফি ও মাসিক ফি। অধিকাংশ স্কুলে নার্সারী থেকে ৩য় শ্রেণী ততোধিক ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়।
    এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পোষাক, টাই, জুতা, খাতা-কলম, বই কিনতে হয় নিজ স্কুলের নির্দিষ্ট করা দোকান বা লাইব্রেরী থেকে। পরে ঐসব দোকান থেকে মোটা অংকের টাকার কমিশন হিসাবে দেওয়া হয় স্কুল মালিক বা প্রধানকে।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলের অভিভাবক অভিযোগ করেন, এ যেন মগের মুল্লুক। গলা কেটে ফি নিয়ে ইচ্ছামত চালানো হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। আরেক অভিভাবক জানান, শুধু প্রকাশনী সংস্থার কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশনের জন্য বাচ্চাদের উপর জটিল বই নির্ধারণ করা হয়। মূলত কিছু কিছু মুনাফালোভী ব্যক্তির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠান গলাকাটা ব্যবসা করছে। এছাড়া সরকারী কোন নিয়ম-নীতি না থাকায় তারা ইচ্ছামত বেতন ফি আদায় করছে।
    এ ব্যাপারে ঈদগাঁওর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ফিরোজ আহমদ বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেণীর প্রতিষ্ঠান নিজেকে অধ্যক্ষ বা প্রিন্সিপাল লিখতে পারেন। এইচএসসি বা ডিগ্রী পাশ অনেক কেজি স্কুলের প্রধান নিজেকে প্রিন্সিপাল হিসেবে পরিচয় দেন। এটা তার বোধগম্য নয়। তার পদবী হল প্রধান শিক্ষক। তারা টাকার জন্য পদ-পদবী ও কৌশলে পরিবর্তন করেছেন। সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, সরকারের সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি না থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নীতি নির্ধারকরা দিক নির্দেশনা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। c

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ঈদগাঁওতে প্রাইভেট স্কুল-মাদ্রাসায় কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান