• Latest News

    অনুমোদনবিহীন খাদ্য পণ্যের কারখানা, নেই তদারকি


    মোহাম্মদ শফিক, কক্সবাজার:
    কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পশ্চিম লারপাড়া গ্যাস পাম্প ষ্টেশনের পূর্বে পাশে অননুমোদিত ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরি ও রমরমা বাণিজ্য চলছে। বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে গত তিন বছরের ধরে এই ব্যবসা করে আসছে তথাকথিত “নিউ ঢাকা ফুড প্রোডাক্ট প্রস্তুতকারক” এ প্রতিষ্ঠান। নানা জাতের কেক, বন, বিস্কিট এই কারখানায় অত্যন্ত স্যাঁতসেতে পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এতে মিশানো হচ্ছে মানব স্বাস্থ্যের ক্ষতিকারক নানা ক্যামিকেল। বছরের পর বছর এইভাবে অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য তৈরি হয়ে আসলেও খবর নেই কর্তৃপক্ষের।
    জানা যায়, ঢাকার বাসিন্দা, বর্তমানে দক্ষিণ লারপাড়ায় বসবাস করছেন। নাম শাহাদাত হোসেন এই ব্যক্তি নিউ ঢাকা ফুড প্রোডাক্ট প্রস্তুতকারক খতিত স্বাত্ত্বাধিকারী হিসাবে গত তিন বছর ধরে একটি উক্ত এলাকায় বড় কারখানা তৈরি করে অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য তৈরি করে আসছে। তবে রহস্যজনক কারণে এই পর্যন্ত ভোক্তার অধিকার অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তরফ থেকে তেমন কোন অভিযান করা হয়নি। এতে এই ব্যবসা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।
    এই প্রতিষ্ঠানে বিসটিআই বিডিএস ৩৮৩ নং মুলে অনুমোদন আছে বলে দাবী করলেও মুলত নিউ ঢাকা ফুডের কেউ কোন ধরণের কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি। একই সাথে প্রোডাক্টের প্যাকেটের গায়ে ব্যাচ নং, উৎপাদন তারিখ, মিয়াদ উর্ত্তীণ তারিখ, ওজন, খুচরা মূল্য লেখার নিয়ম থাকলেও কোন প্রোডাক্টের গায়ে এইসব লিখা নেই।
    এই প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে, তিন প্রকার কেক, পাঁচ প্রকার বিস্কুট, বাটার বন, ক্রীম বাটার, রোল,বন ও পেটিজ জাতিয় পণ্য।
    কারখানায় প্রতিদিন কাজ করছেন ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক। মানা হচ্ছে কোন ধরণের খাদ্যপণ্য তৈরির নিয়ম। খোলা গায়ে, খালি হাতে গ্লাপ ছাড়াই খুব নিচু মানের নোংরা স্যাঁতসেতে পরিবেশে এইসব জিনিস তৈরি হচ্ছে। আর এইসব খাদ্যপণ্য শহরসহ জেলার বিভিন্ন দোকানে তাদের ভ্যানগাড়ি দিয়ে পৌছে দেন। এমন অননুমোদিত খাদ্যপণ্য দেদারছে বিক্রি হয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না। এইসবই বা জানবে কিভাবে কক্সবাজার ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যালয়টি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে। কয়েক মাসে আগে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তর অফিসে শাহ আলম নামে এক অফিসার যোগ দেয়ার আনুমানিক ১৫/২০ দিনের মাথায় সে বদলী হয়ে যায়। এর পর থেকে এই অফিসে তেমন কোন অফিসারকে অফিস করতে দেখা যায়নি।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক ব্যক্তি জানান, সম্পূর্ন অনুমোদনহীন এমন নোংরা পরিবেশ খাদ্যপণ্য তৈরি করে আসছে এই কারখানায়। মানা হচ্ছে না কোন নিয়ম। মিশানো হচ্ছে নানা জাতের রং ও ক্যামিকেল। যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। এইসব ভেজাল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া খুবই জরুরী।
    এই বিষয়ে নিউ ঢাকা ফুড কারখানায় গেলে মালিক শাহাদত হোসেন সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে সটকে পড়েন। ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুরউফ জানান, আমাদের অনুমতি আছে। তাকে কাগজ পত্র আছে কি না জানতে চাওয়া হলে কোন ধরণের কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি তিনি।
    কক্সবাজার কনজুমার এসোশিয়শন (ক্যাব) এর জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চেšধুরী জানান, শহরে নিউ ঢাকা ফুড কারখানাসহ আরো বেশ কয়েকটি ভেজাল ভোগ্যপণ্যের কারখানা রয়েছে। এগুলোর তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। এছাড়া এই অবৈধ কারখানাগুলোতে শ্রিঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জনান এই কর্তা।
    c

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: অনুমোদনবিহীন খাদ্য পণ্যের কারখানা, নেই তদারকি Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান