কক্সবার্তা ডেস্ক :
বর্ষ বিদায় ও নূতন বছর বরণ উপলক্ষ্যে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের পরিবহনকারী বাসগুলো পথে পথে হয়ে গেছে। নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় শহরের হোটেল-মোটেল জোনের যত্রযত্র ছেয়ে গেছে এসব বাসে। সেই সাথে রয়েছে বিভিন্ন প্রাইভেট যানবাহনও। সেখানকার প্রধান সড়ক থেকে উপসড়ক, হোটেল-গেষ্টহাউজ চত্বর, ফুটপাত দখল করে রেখেছে এসব যানবাহনগুলো। এমনকি সরকারি দপ্তরের চত্বর, খেলার মাঠ এবং মানুষের বাসা-বাড়ির আঙিনাতেও রাখা হয়েছে বেশ সংখক পর্যটক বাস। পর্যটক বহনকারী এসব বাসের বেপরোয়া অবস্থানের কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজট বিরাজ করছে। এতে করে পুরো হোটেল-মোটেল জোন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ এবং চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে পর্যটকেরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটন মৌসুমে পর্যটক নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বাসসহ অন্যান্য যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য বিগত বছরগুলোতে সরকারিভাবে নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ড করা হতো। দীর্ঘদিন শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জায়গায় পর্যটক বাসের স্ট্যান্ড ছিলো। সর্বশেষ গত বছরও স্টেডিয়াম সংলগ্ন পর্যটন কর্পোরেশনের খালি জায়গাটি পর্যটক বাসের পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত ছিলো। ইজারার মাধ্যমে জেলা প্রশাসন এই পর্যটক বাসের পার্কিং স্ট্যান্ড করতেন। সেখানেই কক্সবাজারে আসা পর্যটক বাসসহ পর্যটকবাহী সব যানবাহনের পার্কিং সংকুলান হতো। কিন্তু চলতি বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পর্যটক বাস পার্কিং স্ট্যান্ড ইজারা দেয়া হয়নি। এমনকি পর্যটন কর্পোরেশনের ওই জায়গাটি রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকে কক্সবাজারে এসেছে বিপুল পর্যটক। এসব পর্যটকদের বহন করে আনা বাসগুলো শহরে ঢুকে পড়ছে। গত বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার কক্সবাজার শহরে ঢুকে পড়ে পর্যটকবাহী পাঁচ’শতাধিক বাস। সেই সাথে রয়েছে কয়েক’শ বিভিন্ন প্রকারের প্রাইভেট যানবাহনও। নির্ধারিত পার্কিং স্ট্যান্ড না থাকায় বাসসহ এই বিপুল সংখ্যক যানবাহন নিরুপায় হয়ে পড়ে। অন্যদিকে শুধুমাত্র তারকামানের কয়েকটি হোটেলে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও অন্য সব হোটেলে তা নেই। তাই বিপুল সংখ্যক পর্যটকবাহী যানবাহন যত্রতত্র পার্কিং করে রাখা হয়েছে। এ কারণে এতদিন পরিস্থিতির বিঘ্ন না ঘটলেও যানবাহনের সংখ্যা মাত্রারিক্ত বেড়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার থেকে তৈরি হয় তীব্র সঙ্কট। পুলিশের কড়া তাড়া সত্ত্বেও বাসগুলো যত্রযত্র পার্কিং করে বসছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের প্রবেশ করা বিপুল সংখ্যক পর্যটক বাস হোটেল-মোটেল জোনের প্রধান সড়ক, উপসড়ক, প্রধান সড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন হোটেল ও গেষ্টহাউজ সংলগ্ন ফুটপাত, কলাতলী সৈকত পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট সড়ক, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চত্বর, কটেজ জোনের গলি, বাহারছড়া খেলার মাঠ, সৈকতের ডায়বেটিকস পয়েন্ট, জেলে পার্ক ময়দানসহ আরো কয়েকটি স্থানে এলোমেলোভাবে পার্কিং করে রাখা হয়েছে। এসব স্থানে বাসের সাথে নোহাসহ বিভিন্ন প্রাইভেট যানবাহনও পার্কিং করতে দেখা গেছে। এছাড়াও বেশ সংখ্যক যানবাহন মানুষের বাসা-বাড়ি এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের চত্বরে রাখা হয়েছে।
সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পর্যটক বাড়াতে কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে স্বাভাবিকের চেয়ে আরো বেশি সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। তারপরও পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অনেক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কয়েকজন বাসচালক এই প্রতিবেদককে জানান, নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় যেখানে সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই বাস পার্কিং করেছেন তারা। পুলিশের অনেক থেবড়ানি খেলেও তাতে নিরুপায় বলে দাবি করেন বাসচালকেরা।
বাহারছড়ার কয়েকজন তরুণ জানিয়েছেন, পর্যটক বাস পার্কিং করার কারণে তিনদিন ধরে গোলচত্বর খেলার মাঠে খেলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
সৈকত এলাকার ব্যবসায়ী নেতা আবদুল সবুর জানান, শুধু যত্রতত্র পার্কিং নয়; এসব বাস পার্কিংকের আশে পাশেই খোলা পরিবেশে পিকনিক করছে পর্যটকেরা। পিকনিকের রান্নাবান্নার উচ্ছিষ্ট বর্জ্য তারা খোলায় জায়গায় যেখানে-সেখানে ফেলে রাখছে। এমনি নিরুপায় হয়ে অনেক পর্যটক খোলা পরিবেশে মল-মূত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা হয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার শহর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক বিনয় কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘প্রতিবছর পর্যটক বাসের জন্য পার্কিং স্ট্যান্ড করা হলেও চলতি বছর তা করা হয়নি। এই কারণে বাসগুলো যত্রতত্র পার্কিং করছে। তারপরও আমরা সাধ্য মতো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। কিন্তু পরিস্থিতি দিনে দিনে মারাত্মক হয়ে উঠছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে আমরা ভাবছি। সমাধানযোগ্য কিছু করার ব্যবস্থা করবো।’ সুত্র: সিবিএন
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: কক্সবাজারে পর্যটকবাহী যানবাহন যত্রতত্র পার্কিং
Rating: 5
Reviewed By: Unknown