ডেস্ক রিপোর্ট :
হিন্দুদের মঠ-মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদে জামালখানে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করছিল ঐক্যবদ্ধ সনাতন হিন্দু সমাজ নামে একটি সংগঠন। দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করছিলো সংগঠনটি। প্রেসক্লাবের নীতিনির্ধারকরা তাদের প্রেস ক্লাব ও ভবনের প্রধান ফটক এবং সামনের সড়ক বন্ধ না করার অনুরোধ করেন। এসময় তারা লাটিসোটা নিয়ে হামলা শুরু করে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে নগরীর জামাল খান প্রেস ক্লাবে। এ ঘটনায় পুলিশ চার জনকে আটক করে জিঙ্গাসাবাদ করছে। বর্তমানে তারা নগরীর কোতোয়ালী থানায় আটক রয়েছে।
আটক চারজন হল, অজয় দত্ত (২০), নয়ন সরকার (২১), পিয়াল শর্মা (২০) ও অনুভব মজুমদার (২১)।
প্রত্যেক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মানববন্ধনে জড়ো হওয়া লোকজন প্রেসক্লাবের মূল ফটক ঘিরে এবং সড়কের মাঝখানে দাঁড়ানোর কারণে গাড়ি চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এসময় সেখানে আটকা পড়ে একুশে টেলিভিশনের প্রাইভেট কার। গাড়িতে বসা ছিলেন একুশে টেলিভিশনের আবাসিক সম্পাদক রফিকুল বাহার এবং সময় টেলিভিশনের চট্টগ্রাম প্রধান কমল দে। দুই সাংবাদিক গাড়ি থেকে নেমে উপস্থিত পুলিশের কাছে সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িটি পার করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। পুলিশকে অনুরোধ জানানোর সময় ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক এসে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করে। অকথ্য ভাষায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করে। গাড়িতে লাথি মারে এবং কয়েকজন যুবক জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে গাড়িটিতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। সাংবাদিক রফিকুল বাহার এসময় হাত জোর করে ক্ষমা চেয়ে অকারণে ক্ষিপ্ত যুবকদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তারা ওইসময় মোবাইল ফোনে গাড়ির নম্বরপ্লেট এবং সাংবাদিকের ছবি তুলতে থাকে।
পরে পুলিশ গাড়িটিকে সরিয়ে নিলে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এসব যুবক প্রেসক্লাবের প্রধান ফটক ভাঙার চেষ্টা করলে আলোকচিত্র সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপরও হামলা চালায়। সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবের দোতলায় উঠে গেলে হামলাকারী যুবকরা দৌড়ে এসে সেখানেও হামলা এবং ভাঙচুর চালায়।
হামলাকরীরা আলোকচিত্র সাংবাদিক বাংলানিউজের উজ্জল ধর , ডেইলি স্টারের অনুরপ টিটু ও সুপ্রভাত বাংলাদেশের হেলাল সিকদার এবং বাংলানিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রমেন দাশগুপ্তকে লাঞ্ছিত করে। প্রেসক্লাবের তিনতলা থেকে এটিএন নিউজের ক্যামেরাম্যান নয়ন চক্রবর্তী আলোকচিত্র ধারণের সময় তাকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে নিজেরাই ছবি মুছে ফেলে।
এসময় প্রেসক্লাবের কার্যালয় থেকে সভাপতি কলিম সরওয়ারসহ সিনিয়র সাংবাদিক নেতারা এসে হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারী যুবকরা প্রেসক্লাব সভাপতির ওপরও হামলার চেষ্টা করে।
এ প্রসঙ্গে প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার সিবিএনকে বলেন, হামলাকারীরা প্রেস ক্লাবের মুল ফটকে হামলা চালানোর পর ক্লাবের দোতলায় উঠে আসে। আমি এবং কয়েকজন সাংবাদিক তাদের শান্ত করার চেষ্টা করি। এতে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বলে, যারা ছবি তুলেছে তাদের বের করে দিতে। অন্যথায় ভাংচুর চালানো হবে। এসময় তারা এই দুই সাংবাদিককে পেটানোর হুমকি দেয়।
প্রেস ক্লাবের সভাপতি আরো বলেন, এ ঘটনা স্মরণকালের ইতিহাসে হয়ে থাকবে। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম রাস্তা থেকে প্রেসক্লাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা চালায়। কিন্তু তারাও প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢোকার সাহস পায়নি। আমরা এই ঘৃণ্য হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন সিবিএনকে বলেন, ঘটনাটি আমরা খতিয়ে দেখছি। এর পেছনে আর কোন কারণ রয়েছে কিনা। ঘটনাটি আমরা খুব গুরত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাকিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। হামলায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হবে। বলেন, এস এম মোস্তাইন হোসেন।
হামলার ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে), চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হামলায় জড়িত সবাইকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
c