ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদীর মেজ ভাই অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আমাদের দেশে এমন খবর কল্পনার অতীত হলেও ভারতে তা বাস্তব। খবরটি অনুপ্রেরণা যোগানোর মতো। ভাইয়ের প্রভাব না খাটিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়তার সুযোগ-সুবিধা না নিয়ে; নিজের যোগ্যতায়, পরিশ্রমের বিনিময়ে গর্বিত জীবন-যাপন করছেন তিনি। আার আমাদের দেশে হয় এর উল্টোটা।আমরা প্রভাব খাটিয়ে, অন্যায় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আয়েশী জীবন-যাপনকেই গুরুত্ব দিয়ে চলি। তাছাড়া ন্যাক্কারজনক যতো কাজ তা হয় ঐ প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়। আমাদের দেশে সামান্য চৌকিদারের প্রভাবে নিমর্মভাবে মানুষ হত্যা করেও হত্যাকারী বিদেশে পাড়ি জমানোর সুযোগ পায়। আর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হলে তো কথাই নেই। ইউপি চেয়ারম্যানের ভাইদের মোটরসাইকেলের ভটভট শব্দে এলাকার মানুষের অতিষ্ঠ হওয়ার অভিজ্ঞতার অভাব নেই। আর উপরের দিকে গেলে বলা যায়_ আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ক্ষমতার দাপটে বিশেষ ভবন তৈরি হয়।রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব প্রতিপত্তির জোরে রাতকে দিন আর দিনকে রাত বানানো আমাদের দেশে মামুলি ব্যাপার। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ভাইকে উচ্চ পদস্থ করাকে তো আমরা রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হিসেবেই পুলকবোধ করি। এমন মানসিকতাকে নাড়া দিচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাইকে অটোচালক হিসেবে দেখে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি দৃষ্টান্ত হতে পারে এবং তা দিতে পারে প্রভাবমুক্ত সমাজের সন্ধান।পুনশ্চ : বাবার পরিচয়ে প্রভাব খাটানো লজ্জার। ভাইয়ের প্রভাবে পরিচিত হওয়া বেদনার আর নিজের পরিচয়ে পরিচিত হওয়াই গর্বের।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: একজন প্রধানমন্ত্রীর ভাই যখন অটোরিকশা চালক
Rating: 5
Reviewed By: Unknown