ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দেয়া রায় অনুসারে কর্জের টাকা পরিশোধ না করে আত্মগোপনে ছিলেন চকরিয়ার বমু বিলছড়ির মঞ্জুর আলম নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের দাবী অনুযায়ী তিনি ছিলেন যক্ষা রোগী। এ অবস্থায় তিনি গত ২৮ সেপ্টেম্বর মারা যান। মঞ্জুর আলম মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও ছেলে মিলে পাওনাদারের টাকা না দেওয়ার জন্য অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ৪নং বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের মৃত জাকের হোসেনের ছেলে মঞ্জুর আলম (৫০) একই এলাকার পল্লী চিকিৎসক নুর আহম্মদের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সায়েম মিয়ার কাছ থেকে তামাক চাষের জন্য ধার হিসাবে ৮০ হাজার টাকা দেন। চুক্তিমতে টাকা না দিলে সাইফুল নালিশ করেন বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতলবের কাছে। চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর মধ্যস্ততায় মঞ্জুর আলম পাওনাদার সাইফুল ইসলামের কাছে মজুরি হিসাবে এ টাকা পরিশোধ করবেন বলে চুক্তি হয়।এদিকে, স্থানীয় জমি বিক্রয় নামা দলিল মূলে মঞ্জুর আলমের নামীয় জমি ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন সাইফুলের কাছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মঞ্জুর আলম মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৪৫) ও তার বড় ছেলে ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে পাওনাদার সাইফুল ইসলামকে ঘায়েল করতে উঠেপড়ে লাগে। এ কাজে যোগ দেন লামা একজন সংবাদকর্মীও। এ সিন্ডিকেটটি সাইফুলের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করেন। সাইফুল টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, অনলাইন নিউজ পোর্টালে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করতে থাকেন।এ ঘটনায় অভিযুক্ত লামা সংবাদকর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মঞ্জুর আলমের ছেলের সাথে আমি কথা বলেছি, সে আমাকে বলেছে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নাই, যেহেতু ভিকটিমের কোন অভিযোগ নাই, তাহলে আমার অভিযোগ থাকার দরকারটা কি? নিউজটা আমি করি নাই, নিউজটা স্টপ করছি”। পরে দেখা যায় চট্টগ্রামের একটি দৈনিকে সাইফুলকে সুদখোর মহাজন বানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন ওই সংবাদকর্মী!তবে এ বিষয়ে মঞ্জুর আলমের স্ত্রী রাবেয়া বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হন নি।এ ব্যাপারে পাওনাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, মঞ্জুর আলম আমার প্রতিবেশী। তার অর্থাভাব থাকায় সাবলম্বি হওয়ার জন্য তাকে আমি টাকা ধার দিয়েছিলাম। এ বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ইউপি চেয়ারম্যান জানেন। এখন মঞ্জুর আলম মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৪৫) ও তার বড় ছেলে লামার একজন সংবাদকর্মীর ইন্ধনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রটাচ্ছে।ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মতলব এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মঞ্জুর আলম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ছিল। সাইফুল ইসলামের সাথে মঞ্জুর আলমের লেনদেনের বিষয়টি আমি ওয়াকিবহাল। তবে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সত্য নয়।
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: টাকা ধার দিয়ে বিপদে পড়ল চকরিয়ার সাইফুল
Rating: 5
Reviewed By: Unknown