এ এম হোবাইব সজীব:
মহেশখালী উপজেলার উপদ্বীপ মাতারবাড়ীতে সরকারী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এমবিবিএস ডাক্তার না থাকায় হাতুড়ে ডাক্তারদের চিকিৎসা ব্যবসা এখন রমরমা। ড্রাগ অথরেটির বিধানের কেউ তোয়াক্কা করছেনা। ঔষধের দোকানে চাকরী করে, কিংবা কোন ঔষধ কোম্পানিতে কিছুদিন চাকরি করে কেউ নিজে, আর কেউ ফ্রক্সি প্রাইভেটে এলএমএএফ কোর্স শেষ করে এখন যেন এমবিবিএস পাস কিংবা তার চেয়ে ও বেশী এফসিপিএস পাস করা ডাক্তারের মতো চালিয়ে যাচ্ছে চেম্বার নামের মানুষ মারার প্রতারনা। কোন রকম একটি ফার্মেসী দিতে পারলেই নিজেই ডাক্তার সেজে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা।
সিকদার পাড়ার রশিদ মাঝি ও সাইফুল সচেতন লোকজন জানিয়েছেন,এই এলাকায় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কোন ডাক্তার নেই, তবে ফার্মেসী রয়েছে অসংখ্য। প্রতিটি ফার্মেসীতেই রয়েছে একজন ডাক্তার। সাইন বোর্ডে এদের নামের আগে ডাক্তার লেখা থাকলেও এরা প্রাতিষ্টানিক শিক্ষিত কোন ডাক্তার নয়। কিন্তু সনদ রয়েছে। এরা অধিকাংশ সংগ্রহ করেছে কক্সবাজার শহরের মানবসম্পদ উন্নয়ন সোসাইটি নামের একটি প্রতিষ্টান থেকে। এই প্রতিষ্টানটি দীর্ঘদিন যাবৎ পল্লী চিকিৎসক সনদ ব্যবসা করে এসেছে। তবে বর্তমানে ওই প্রতিষ্টানের কোন অস্থিত্ব নেই।
আর এর জন্য জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পর ও কোন কিছু হচ্ছেনা। তাদেরকে থামাবে কে এলাকার সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্ন। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, মাতারবাড়ীর পুরান বাজারের ডাঃ আব্দু রশিদ বিএ‘র কমান্ডে চলছে এ প্রতারনা ব্যবসা। কোন ধরনের ডিপ্লোমা না থাকলে ও বড় আর লোভনীয় সাইনবোর্ড লাগিয়ে আব্দু রশিদ দীর্ঘদিন ধরে মাতারবাড়ী পুরানবাজারে চিকিৎসার নামে অপ-চিকিৎসা চালিয়ে আসছে।
জানা গেছে,কোন রোগীকে পর্যবেক্ষনে রাখার কোন বৈধতা না থাকলেও তারা দিনের পর দিন সিটে রেখে রোগীদের হয়রানী করছে এমন অভিযোগ স্থানিয়দের। এজন্য গত এক বছরে তিন জন রোগী ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে। আর শতাধিক রোগি মানবেতর জীবনযাপন করছে এমন অভিযোগ করেন পুরান বাজার এলাকার আলহাজ্ব বদর উদ্দিন। তিনি বলেন পুরান বাজারের ডাক্তার নামক হাতুড়ে কষাইদের এলএমএএফ কোর্স না করেও ফার্মেসী নিয়ে ডাক্তার নামে বসে আছে অনেকেই। গত ১৯ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবরে মাতারবাড়ী পুরানবাজারের ডাক্তারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলেও এখনো পর্যন্ত কোন ফলাফল না পাওয়ায় হতাশ এলকাবাসী। একই অবস্থা ইউনিয়নের নতুন বাজারও। উক্ত হাতুড়ি ডাক্তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করে কক্সবাজারের সিভিল সার্জনকে ও অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। তাছাড়া নতুন ভূয়া নামের হাতুড়ে ডাক্তারদের রমরমা চিকিৎসা ব্যবসা থামবে কবে তা জানতে চায় ইউনিয়নের তিতামাঝি পাড়া এলাকার মোঃ আলী। রংচকা ডিজিটাল সাইনবোর্ড আর লোভনীয় ডেকোরেশন এমবিবিএস পাস ডাক্তারকেও হার মানায়।
এ বিষয়ে মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আ‘লীগের সাধারন সম্পাদক আবু হায়দার আমাদের কক্সবাজারকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাতারবাড়ী সরকারী হাসপাতালে এমবিবিএস ডাক্তার না থাকায় মানুষ হাতুড়ে ডাক্তারদের স্মরানাপন্ন হচ্ছে। তাই তিনি সরকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট মাতারবাড়ীতে অনতিবিলম্ভে একজন এমবিবিএস ডাক্তার দেওয়ার দাবী জানান। এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে মহেশখালী সরকারী হাসপাতালের টিউস্যু মাহফুজুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে আমাদের জানা নাই তবে তদন্ত করে ভ্রাম্যমান আদালতের সহযোগিতায় শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
