এতো কাছে তবু কত দূরে’-শুক্রবার ইংলিশদের বিপক্ষে টাইগার সমর্থকদের মনের অবস্থাটা ঠিক এমনই। জয়ের জন্য টাইগারদের প্রয়োজন ৫২ বলে ৩৯ রান। বর্তমান ক্রিকেটে যা অত্যন্ত সহজ লক্ষ্য। তখনও উইকেটে সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল কায়েস এবং বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। হাতে তখন টাইগারদের ৬ উইকেট।
কিন্তু সাকিবের বিদায়ে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপে। পরপর দুই বলে সাকিব ও মোসাদ্দেককে তুলে নিয়ে অভিষেকটা মনে রাখার মতো করে রাখলেন জ্যাক বল। ১৭ রানেই শেষ টাইগারদের শেষ ৬ ব্যটসম্যান। টাইগাররা ম্যাচ হারে ২১ রানের ব্যবধানে। এমন একটি ম্যাচ হেরে হতাশ বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি। তাইতো তিনি বলেছেন এমন হার সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন। তারপরও বাকি দুটি ম্যাচের জন্য সতীর্থদের প্রতি ইতিবাচক আহ্বান জানিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক।
শুক্রবার ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তারই চুম্বক অংশ বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:-
প্রশ্ন : এতো কাছে গিয়ে হার-ব্যাখা করবেন কিভাবে?
মাশরাফি : এই ম্যাচটা অবশ্যই জেতা উচিত ছিলো আমাদের। ৫২ বলে ৩৯ প্রয়োজন। তখন হাতে ৬ উইকেট। আমরা আরও ভিন্নভাবে চেষ্টা করতে পারতাম। এভাবে হার সত্যিই হতাশার।
প্রশ্ন : শেষ ওভারগুলোতে ব্যাটসম্যানদের এভাবে খেলার কারণ কি?
মাশরাফি : হয়তোবা আরও একটু দেখে শুনে খেলা যেত। শেষ দুই ওভারে যদি ১৫-১৬ লাগতো সেটাও পুষিয়ে দেওয়া যেত। আমরা অন্যভাবে চেষ্টা করতে পারতাম। কারো দোষ দিয়ে লাভ নেই। এর আগেও শেষ দিকে এমন ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে পড়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই এমন হচ্ছে। এখান থেকে ঘুড়ে দাঁড়াতে না পারলে, আমাদের জন্য ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে যাবে।
প্রশ্ন : আপনার জন্য এটা কতটা হতাশার?
মাশরাফি : এটা যে কারও জন্যই হতাশার। পুরো দলই এখন হতাশ।
এই ম্যাচের ভালো জিনিসগুলো পরবর্তী ম্যাচে কাজে লাগাতে হবে। ভারতের সঙ্গেও আমরা খুব ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। আজকের ম্যাচটিও হতাশার। ৩০০ রান চেস করে জিততে পারলে সব দিক থেকেই ভালো অবস্থানে থাকতে পারতাম। ম্যাচটি জিততে পারলে আমরা ১-০তে এগিয়ে যেতাম। সুযোগটা নিতে পারেনি; হারতো হারই। এই ধরনের হার মেনে নেওয়া খুব কঠিন।
প্রশ্ন : আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে শুরু করে শেষ দশ ওভারে ব্যাটিং বিভাগ ধসে পড়ছে। এর কারণ কি মনে হয়?
মাশরাফি : এটার ব্যাখা করা আসলে কঠিন। আস্কিং রেট যদি হয় ৪-৫ থাকে, তাহলে বিগ শটের প্রয়োজন হয় না। যখন আস্কিং রেট ৮ এর বেশি থাকে তখন হয়তো বিগ শট খেলতে হয়। আজকে এটারও দরকার ছিলো না। ওদের (ইংল্যান্ড) একটা পর্যায়ে ফিল্ডিং ক্লোজ করে রাখতে হয়েছিলো। ওই মূহুর্তে আমরা অনেক বাজে শট খেলে আউট হয়েছি।
প্রশ্ন : শেষ দিকে ব্যাটসম্যানরা কি প্যানিক হয়েই আউট হয়েছে?
মাশরাফি : আউটগুলো দেখলেই বোঝা যাবে, ব্যাটসম্যানরা কতটা প্যানিক ছিলো। হয়তোবা আরও নরম্যাল থাকতে পারতো। ওখানে ১০-১২বল ডটও হলে খুব একটা সমস্যা ছিলো না। রান করার তাড়াতেই আমরা আউট হয়েছি।
প্রশ্ন : গত কয়েক ম্যাচ ধরে ফিল্ডিং ভালো হচ্ছে না। কারণ খুঁজে পেয়েছেন?
মাশরাফি : আজকেও আমাদের ফিল্ডিং ভালো হয়নি। ওই সময় আমরা যদি তিনটি ক্যাচ নিতে পারতাম তাহলে ২৮০-২৯০ হতো। তাহলে আমাদের মানসিক অবস্থাও অন্যরকম হতে পারতো।
প্রশ্ন : লেগ স্পিনার আদিল রশিদকে না খেলতে পারার কারণ কি?
মাশরাফি : শুরুতে লেগ স্পিনার কিন্তু উইকেট পায়নি। ব্যাটসম্যান খুব ভালো ভাবেই সামলেছিলো। হয়তোবা রিয়াদ-মুশফিকের উইকেটটা প্রথমে পেয়েছে। এরপর সাকিব এবং ইমরুল খুব ভালো খেলেছে। পর পর দুটি উইকেট পড়াতে লেগ স্পিনার আমাদের চেপে ধরতে পেরেছে।
প্রশ্ন : সাকিব আউট হওয়ার পর ড্রেসিংরুম থেকে কি ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছিলো?
মাশরাফি : সবাই বলা হয়েছিলো শেষ পর্যন্ত ইমরুলের সঙ্গে উইকেটে থাকতে হবে। আমি যখন যাই, তখনো ইমরুলের সঙ্গে আলাপ ছিলো, ইমরুলকে কমপক্ষে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করতে হবে। আসলে সেটা হয়নি। তারপরও ইমরুলে যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সেটা অসাধারণ ছিলো।
প্রশ্ন : মুশফিকের ব্যাটে রান নেই। তাকে নিয়ে চিন্তিত কিনা?
মাশরাফি : মুশফিক আমাদের দলের সেরা ব্যাটসম্যান। ৩-৪ ম্যাচের পর মুশফিককে নিয়ে প্রশ্ন করাই উচিত নয়। সে সঠিক সময়ে ব্যাক করবে।
প্রশ্ন : মোশারফ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা কতটুকু রাখে?
মাশরাফি : প্রথমতো মোশারফ অনেকদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলো। ওর জন্য কাজটা অনেক কঠিন। আজকে দুর্ভাগ্যবশত দুটি ক্যাচ ছেড়েছে। এবং বোলিংয়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং করতে হয়েছে। সেজন্য ভালো করতে পারেনি। আমি বলবো আজকের ম্যাচ ওর জন্য ব্যাড লাকের ছিলো।
প্রশ্ন : মানসিকভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে ফেরাটা কতটা কঠিন?
মাশরাফি : আমাদের পেশাদার ক্রিকেটারদের মতো চিন্তা করতে হবে। এখনো দুটি ম্যাচ বাকি। আমাদের সব সুযোগই আছে। আমরা যদি চেষ্টা করি ওই সুযোগগুলো আমাদের আসতে পারে। আমরা অনেক বাজে অবস্থায় হেরেছি, বলে খারাপ লাগাটা বেশি থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। সামনের দুটি ম্যাচ ভালো ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে আমরা জিততে পারি। ইতিবাচক চিন্তা করা ছাড়া আসলে কোন উপায় নেই।
