লামা প্রতিনিধি :
বান্দরবানের লামায় ১৪ বছরের এক মারমা কিশোরীকে ৭০বছর বয়সী আপন নানার নিয়মিত ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। নানার ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে ৫ মাসের অন্ত:সত্বা। বিষয়টি জানাজানির পর সমাজপতিরা ধর্মের দোহাই দিয়ে কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে দুইটি শুকর মূল্য ৪ হাজার টাকা। তবে বিষটি মেনে নিতে পারেনি লামার বৌদ্ধ ধর্মানুসারী সচেতন মহল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধর্ষকের ঘরে হামলা চালিয়েছে। লামা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেউলার চর মারমা পাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।
কিশোরীর স্বজনরা জানান, প্রায় ৬/৭ বছর আগে কিশোরীর বাবা বার্মায় চলে গেছে। এর পর কিশোরীর মা অন্য একজনকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন। বিয়ে করার সুবাধে আগের সংসারের কন্যার খাওয়া দাওয়া ও দেখভালসহ নিরাপত্তায় বিষয়ে চিন্তা করে নিজের বাবার কাছে রেখে যায় তার কন্যাকে। কিন্তু সেই বাবাই ধর্ষণ করেছে তার কন্যাকে। এতে সে ৫ মাসের অন্ত:সত্বা হয়ে পড়েছে। আক্ষেপ করে বলেন ধর্ষিত কিশোরীর মা।
বিষটি জানাজানি হওয়ার পর গত ২৩ মার্চ (বৃহস্পতিবার) পাড়ার কারবারি (পাড়া প্রধান) আনুষ্ঠানিক ভাবে বিচারের মাধ্যমে ধর্ষক নানা চিংচা অং বৈদ্যকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এই জরিমানার টাকা আদায় করে তাদিয়ে শুকর ক্রয় করে। পরে এই শুকরের রক্ত দিয়ে পাড়াকে পবিত্র করা হয়েছে জানালেন ওই পাড়ার লোকজন।
তবে পাড়ার শিক্ষিত ও সচেতনরা কারবারির দেওয়া এই রায় মেনে নিতে নারাজ। তারা বলছেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে মেয়েটির ইজ্জদের দাম নিয়ে শুকরের মাংসে মদপানের আয়োজন ছাড়া এটা আর কিছুই না। এটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না।
এদিকে পাড়া প্রধানের এই রায়ের প্রতিবাদ ও বিক্ষুদ্ধ হয়ে ধর্ষকের ধর্ষক নানা চিংচাঅং বৈদ্যের ঘরে ছেঁড়া জুতা ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। একইসাথে কারবারীর বিচারের দাবী জানিয়েছে।
পাড়াবাসী জানান, বিচারে উপস্থিত ছিলেন- ওই পাড়ার বাসিন্দা ও পাড়া প্রধান ক্যাচাচিং মারমা, কেউসিং মারমা, ক্যাহ্লপ্রু মারমা, ধংসিং উ মারমা ও থুইচাহ্লা মারমা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে পাড়ার কারবারি (পাড়া প্রধান) চাছি অং মারমা বলেন, মেয়ের মা অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধ নানার খেদমত করার জন্য নানা বাড়ীতে থাকত এই কিশোরী নাতনি। অনেক বছর পূর্বে বৃদ্ধের স্ত্রী মারা যায়। স্ত্রী না থাকায় নানা কিশোরীকে অনেক দিন ধরে ধর্ষণ করে আসছে। কারবারি বলেন, আমাদের উপজাতিদের নিয়মানুসারে ধর্ষক ও ধর্ষিতা দুজনই অপরাধি। তারা পাড়াকে অপবিত্র করেছে। তাই পাড়া পবিত্র করার জন্য ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হযেছে।
এই জরিমানার টাকা দিয়ে শুকর কিনে রক্ত দিয়ে পাড়াকে পবিত্র করা হয়েছে। কারবারি আরো জানান, ওই লম্পট ও তার নাতনি ইতিমধ্যে রাতের আধাঁরে পাড়া ছেড়ে পালিয়েছে। বর্তমানে কোথায় আছে জানি না। দেশের প্রচলিত আইনে পাড়ায় এধরনের শালিশ দন্ডনীয় অপরাধ এটা জানেন কিনা! প্রশ্ন করা হলে কারবারি বলেন, আমি এত কিছু ন বুঝে! আরার ধর্ম আরা বুঝে!
এই বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের তরুন আইনজীবী পারভেজ তালুকদার বলেন, এটা একটি গুরুতর অপরাধ। অবশ্যই এটা প্রচলিত আইনে বিচারের দাবী রাখে। এই অপরাধের জন্য ধর্ষককে নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন আইনের ধারা ৯ অনুসারে এই জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবতজীবন দারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।
চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী রওশন আরা ঝর্না বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন আইনে যেমন ধর্ষক শাস্তির মুখোমুখি হবেন। ঠিক একইভাবে গ্রাম্য শালিশের নামে কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য নিয়ে যারা শুকর ক্রয় করে পাড়া পবিত্র করেছেন, তাদেরকেও একই অপরাধে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এটা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন,এই বিষয়ে কেউ আমাকে াভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার পরেও আমি খোজ নিয়ে দেখছি।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান-নু বলেন, বিষয়টি আমি এই মাত্র শুনলাম। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি, অবশ্যই আইনগত ব্যবস্তা নেওয়া হবে।
সোমবার পাড়ায় গিয়ে দেখা জায়, প্রতবাদের মুখে বৃদ্ধা নাতনিকে নিয়ে পাড় ছেড়ে চলে গেছে। নানা চিংচা অং বৈদ্য‘র মজবুদ বাড়ীটিতে এখন আর কেউ নেই। পাড়ার রোকজন জানান,পাড়াবাসী কেউই ঘৃনায় এই বাড়ীর আশেপাশেও যাচ্ছেনা।
//ফাইল ছবি//
- Blogger Comments
- Facebook Comments
Item Reviewed: লামায় কিশোরী ইজ্জতের মূল্যে দিল ৪হাজার টাকা দামের শুকর!
Rating: 5
Reviewed By: Unknown