• Latest News

    পেকুয়ায় ছাত্রলীগ সেক্রেটারীর ফেইসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

    মো: ফারুক, পেকুয়া :
    পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা এলাকার নিত্যান্ত অসহায় নুরুল ইসলাম ও হালিমা বেগমের পুত্র মো: কাইছার (১৩)। নানার বাড়িতে অবস্থান করে রাজাখালী ইউনিয়নের ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীতে লেখাপড়া করেন। পরিবারের নিত্যদিন অভাব থাকলেও ছেলের লেখাপাড়ায় মা বাবা ছিল অনেক সচেতন। লেখাপড়ার খরচ এর বেশিরভাগ সহযোগিতা করতে নানার বাড়ির আত্বীয়রা।
    এ পর্যন্ত সব ঠিকটাক থাকলেও গত ১৫ জানুয়ারী ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বাঁচাই পর্বের গোলক নিক্ষেপের খেলায় শিক্ষকদের অবহেলায় আরেক ছাত্রের ছুড়া গোলকের আঘাতে কাইছার এর মাথায় মারাত্মক আহত হয়। সাথে সাথে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে পেকুয়া হাসপাতালে ভর্তি করালে অবস্থা আশাঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সে থেকে অদ্যবধি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও মাথার অসম্ভব যন্ত্রনায় হাসপাতালেই কাতরাছে। আর্থিক সংকটের কারণে পরিবার ঠিকমতো চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করতে পারছেনা। এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চিকিৎসার আর্থিক ব্যয়ে সহযোগিতা না করার অভিযোগ করেছেন আহত ছেলের পরিবার।
    ছেলের সাথে চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা তার মা হালিমা সাথে মোঠোফোনে চিকিৎসার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, আমরা অনেক অসহায় পরিবার। ছেলের পিতা সিএনজি চালক। দিনে এনে দিনে খায়। এরই মাঝে ছেলে স্কুলের খেলায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারাত্মক আহত হয়। আমরা চট্রগ্রাম নিয়ে আসলেও এ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক ১হাজার টাকা দিয়েছেন মাত্র। আমরা চিকিৎসার জন্য টাকা সহযোগিতা না পেলে ছেলেকে বাঁচাতে পারবনা। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা পেলে আমার ছেলে আবারোও স্কুলে আসতে যাইতে পারবে। আমার অনেক আশা ছেলে লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হবে।
    ওই স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ এর নেতাসহ চট্রগ্রামে অবস্থান করা পেকুয়ার সন্তান শাহনেওয়াজ ও সালাউদ্দিন মাহমুদ তাকে দেখতে হাসপাতালে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও তারা চিকিৎসার অবহেলার কথা উল্লেখ করেছেন।
    এছাড়াও সর্বশেষ গত ২৫ জানুয়ারী পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: এহেতেসামুল হক ওই ছাত্রের চিকিৎসার অবহেলা ও প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছারের অশ্লীল মন্তব্য নিয়ে তার ফেইসবুক ‘এমডি এহেতেসাম পেকুয়া কক্স, (ইংরেজিতে) ওয়ালে ওই আহত ছাত্রকে নিয়ে একটি হৃদয়স্পর্শী মন্তব্য লিখেন। তার এ মন্তব্যটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যা  পাঠকদের উদ্দেশ্য হুবুহু তুলে ধরা হল
    হুমকি ও অপমানিত কত তীব্রতর এবং আরফাতের মত কত মৃত্যুতে রক্ষা পাবে;আমার ছোটভাই কাইছার !!! না আরো…
    আমরা জানি, শিক্ষকরা হচ্ছে মানুষ করার কারিগর। তারাই হচ্ছেন সমাজ তথা দেশ তথা জাতির সর্বোত্তম ব্যক্তি। কিন্তু ব্যতিক্রম শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক জনাব নুরুল আবছার!
    বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে কাইছারের বিষয় অবগত হয়ে; অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করি ২৪ জানুয়ারী। আমি পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে সিনিয়র স্যার প্রদীপ স্যারের সরণাপন্ন হয় বিস্তারিত জানার জন্য। প্রাথমিক কথাবার্তা শেষে, উনার পরামর্শানুযায়ী সামনে থেকেই আবছার স্যারকে ফোন করি। কথোপকথন নিন্মে বর্ণিত:
    সালাম স্যার। আমি এহতেশাম সা.সম্পাদক পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ। বিভিন্ন সামাজিক অনলাইনে আপনার স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র টৈটং ধন্যাকাটার ছেলে কাইছার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা গোলক নিক্ষেপের খেলায় গত ১৫/০১/’১৭ তারিখে গোলকের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে চট্রগ্রাম মেডিকেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছে। তাতে আপনাদের ভূমিকার অবস্থানটা জানতে চাচ্ছিলাম।
    স্যার রেগেই প্রথমে বলা শুরু করল তুর খবর নেওয়ার দরকার কি! তুই আমার স্কুলে কি! তুর এত মায়াকান্না কেন! তুকে কেন বলতে হবে! তুর নেহায়াত কিছু জানতে হলে তুর বাড়ী থেকে জানবি! এরকম বছরে ৭/৮টা ঘটনা ঘটে আমার স্কুলে! এগুলো আমার মত করে আমি শেষ করি! কৈয় তখন ত কেউ জানতে আসেনা! এটা নিয়ে কেন তুর মত সবার এত মাথাব্যথা! কিছু বলবনা! এটাও আমি আমার মত শেষ করব! দেখি কে কি করতে পারে! এটার শেষের শেষ কি আমি দেখব!
    তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আমি ফোন করলাম স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জনাব এ জে এম গিয়াস উদ্দীন মামাকে। বিস্তারিত বলার পর উনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন। কিন্তু অদ্যবধি পর্যন্ত দেখার কিছু নেই। কাইছার আগের অবস্থানে।
    আরবশাহ বাজারে এসে বিভিন্ন অভিভাবকের সাথে কথা বলে প্রধান শিক্ষকের ব্যাপারে জানা কিছু বিষয়:
    গত ১৬/০২/১৬তারিখে আরফাতুল ইসলাম নামের ৭ম শ্রেণীর আরেক ছাত্রের ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যু হয়। তার অপরাধ মাথায় নেইমার কাটিং দেওয়া। শাস্তি হিসেবে নাপিত এনে মাঠে নিয়ে মাথা ন্যাড়া করা, সবার সামনে স্কুলের পুকুরে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাথা চোপানো যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। ৫/৬ মাস পর বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হয়।
    ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণীর এমপিও ভুক্ত এই অন্যতম বিদ্যাপীঠে অধ্যায়নরত আছে ১০০০ অধিক শিক্ষার্থী। তাতে কিভাবে সম্ভব, এহেন চরিত্রের লোকের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অব্যাহত থাকা! তার নেতৃত্বে কিভাবে চলতে পারে এই বিদ্যাপীঠ! তার এত ক্ষমতার উৎস কি! তার ক্ষমতার জাল কি এত বড় যে কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাবেনা!
    আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষ সম্মানিত স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি, প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, সম্মানিত জনপ্রতিনিধি, সম্মানিত উপজেলা শিক্ষা অফিসার (মাধ্যমিক), সম্মানিত উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী মহোদয় সহ জেলা, বিভাগ,মহাপরিচালক (শিক্ষা)মাধ্যম হয়ে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর আশু সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি;যেন যথাযথ ব্যবস্থা কার্যকরীভাবে গৃহীত হয়।
    এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছারের মোঠোফোনে কল করলে রিসিভ না করায় অনেকবার চেষ্টা করি। সর্বশেষ স্কুলে গিয়েও তাকে না পেয়ে অন্যান্য শিক্ষদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তারা প্রধান শিক্ষক ও স্কুল সভাপতির সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। এরপরও মোঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।c

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: পেকুয়ায় ছাত্রলীগ সেক্রেটারীর ফেইসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড় Rating: 5 Reviewed By: Unknown
    উপরে যান